করাচির শপিংমলের আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪, এখনো নিখোঁজ অনেকে

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের করাচির এম এ জিন্নাহ সড়কের বহুতল শপিং মল গুল প্লাজার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ হয়েছে।

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন।

গত শনিবার রাতে গুল প্লাজায় আগুন লাগে বলে জানান স্থানীয় কর্মকর্তারা। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।

কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে তারা বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেননি।

উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আবিদ জালাল জানান, এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আগুনের শিখা বের হয়ে আসছে। এ কারণে শপিং মলের রিম্পা প্লাজা অংশ থেকে নতুন করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়েছে।

Gul Plaza
আগুনে পুড়ে করাচির গুল প্লাজায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

আজ দিনের শুরুতে করাচি দক্ষিণের ডিআইজি সাঈদ আসাদ রাজা জানান, রোববার রাতের পর আরও আট জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিআইজি জানান, 'অগ্নি নিরাপত্তা অভিযান শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানো ও শীতলীকরণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে কেএমসি, টিএমসি ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন।'

আজ সকালে সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর কামরান তেসোরি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। গণমাধ্যমের ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, '৭০ জনেরও বেশি মানুষ' এখনো নিখোঁজ।

'৭০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ আছেন। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক। এটা এখন জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত', যোগ করেন তিনি।

শপিং মলের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে গুল প্লাজার অগ্নিকাণ্ড আরও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা উচিৎ ছিল। কর্তৃপক্ষ সাড়া দিতে অনেক দেরি করে। আগুন নেভানোর সীমিত সক্ষমতাও পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলতে থাকে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সদর ফায়ারস্টেশন ও অন্যান্য নাগরিক সুরক্ষা সংস্থাগুলো সময়মত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাতে পারেনি। রোববারের আগে আগুন নেভানোর উদ্যোগে ঘাটতি ছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দোকানিরা বলেন, দমকলবাহিনী তাদের পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে শনিবার রাত থেকে কাজ শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক কম হোত।

এক দোকানি উল্লেখ করেন, সদর ফায়ারস্টেশন গুল প্লাজা থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরত্বে। তা সত্ত্বেও, দমকলকর্মীদের আসতে অনেক সময় লেগে যায়।

Gul Plaza
আগুনে পুড়ে করাচির গুল প্লাজায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

উপস্থিত মানুষ সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকার ও করাচি মেয়রের কড়া সমালোচনা করেন। এই সংকটের সময় তারা কোথায় ছিলেন এবং কি করছিলেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।