এআই দিয়ে লিখলে যে দক্ষতাগুলো হারাতে পারে শিক্ষার্থীরা, যা বলছে গবেষণা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মনোবিজ্ঞানী রোনাল্ড টি কেলগ দীর্ঘদিন ধরে মানুষের লেখার ধরন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার গবেষণা বলছে, একটি সাধারণ যুক্তিনির্ভর রচনা লেখাও অনেক কঠিন কাজ। মানসিকভাবে এটি অনেকটা মাটি খোঁড়ার মতো পরিশ্রমের।

ভালোভাবে লিখতে শব্দভাণ্ডার, বানান ও ব্যাকরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হয়। একইসঙ্গে বিষয়টি বুঝতেও হয়। মস্তিষ্কে থাকা তথ্য থেকে দরকারি বিষয়গুলো বেছে নিতে হয়। এরপর সেগুলো সাজিয়ে পরিকল্পনা করতে হয়। এসব কাজ একসঙ্গে করতে হয় বলে লেখা বেশ কঠিন এক দক্ষতা। লেখার সময় একজন মানুষ অন্য অনেক কাজও একসঙ্গে করতে পারেন না।

তবু যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের রচনা লেখা শেখানো হয়। তাই মানুষের লেখার কষ্ট কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া কোনো প্রযুক্তি যে জনপ্রিয় হবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

শিক্ষার্থীরা লেখার কাজে এআইয়ের ওপর অত্যধিক নির্ভর করলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

শিক্ষার্থীরা এখন পড়াশোনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বলছে, উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রায় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনায় এআই ব্যবহার করছে। তাদের বড় একটি অংশ লেখার কাজেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছে।

ছবি: ফ্রিপিক

এ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়ছে। তারা চান, শিক্ষার্থীরা এআই ছাড়া লিখুক। তাই অনেক শিক্ষক আবার হাতে লেখা, ব্লু বুক এবং শ্রেণিকক্ষে বসে তত্ত্বাবধানে রচনা লেখার মতো পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরছেন।

অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের নেতারা এআইকে এভাবে প্রত্যাখ্যান করার বিরোধিতা করছেন। তাদের যুক্তি, কর্মক্ষেত্রে লেখালেখি এখন এআই ব্যবহারের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তাহলে শিক্ষার্থীদের এই কাজে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে দেওয়া হবে না কেন?

তাদের আরও দাবি, সাবলীল লেখা তৈরির ক্ষেত্রে চ্যাটবট এখন অনেক মানুষের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে।

এখানেই লেখালেখি নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। লেখার জন্য এত পরিশ্রম করে দক্ষতা অর্জন করার প্রয়োজন কেন? শিক্ষার্থীরা যখন একা বসে নিজের চিন্তা থেকে একটি ফাঁকা পৃষ্ঠায় লেখা শুরু করার অভ্যাস ছেড়ে দেবে, তখন তারা কী হারাবে?

লেখা ও জ্ঞান নিয়ে গবেষণা করা শিক্ষাবিদেরা অবশ্য এআইয়ের পুরোপুরি বিরোধিতা করেন না। তাদের অনেকেই কয়েক দশক ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করে লেখালেখির পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন। প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও তারা আশাবাদী।

তবে তাদের গবেষণা লেখার প্রতিটি ধাপে এআই ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে। ভাবনা তৈরি, খসড়া লেখা এবং সম্পাদনাসহ সব কাজই যদি এআই করে দেয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

গবেষণা বলছে, এআই ছাড়া লেখা মূল্যবান শুধু এটি কঠিন বলে নয়। বরং লেখা আমাদের কর্মস্মৃতি, পরিকল্পনা করার ক্ষমতা ও নিজের চিন্তা নিয়ে ভাবতে শেখা বাড়ায়।

লেখার সময় আমরা অন্যের মতামতও বিবেচনা করতে শিখি। নিজের বক্তব্য আরও পরিষ্কার করতে লেখা বারবার সংশোধন করি। এভাবে লেখার মাধ্যমে চিন্তার দক্ষতাও তৈরি হয়।

লেখার দক্ষতা একদিনে তৈরি হয় না। শিশুকাল থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

ড. কেলগের ভাষায়, ‘লেখা চিন্তা করার একটি প্রযুক্তি।’

ছবি: ফ্রিপিক

লেখার গুরুত্ব কেন বাড়ল

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় লেখার দক্ষতা এতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। ১৮৭০-এর দশকের আগে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূলত মৌখিকভাবে নেওয়া হতো। কলেজেও মূলত ভবিষ্যৎ ধর্মযাজক ও আইনজীবীদের মতো অভিজাত পেশার মানুষেরাই পড়তেন। তখন জনসমক্ষে কথা বলার দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো।

পরে আধুনিক নগর অর্থনীতি গড়ে ওঠে। টাইপরাইটারও আবিষ্কৃত হয়। এতে লিখিত শব্দনির্ভর চাকরি বাড়তে থাকে।

অফিসের কেরানি থেকে বিজ্ঞাপনের কপিরাইটার, অনেক পেশাতেই লেখার প্রয়োজন বাড়ে। উনিশ শতকের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে লেখা শেখানো আরও জরুরি হয়ে ওঠে।

একই সময়ে কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছিল। ফলে সবার মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ভাষাবিদ নাওমি এস ব্যারন তার বই ‘হু রোট দিস?’-এ এই ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা আরও একটি বিষয় বুঝতে পেরেছিলেন। লেখা জ্ঞানকে গভীর করে।

ছবি: ফ্রিপিক

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায়ও দেখা গেছে, আমরা যা পড়ি তা মনে রাখতে লেখালেখি সাহায্য করে। লেখার সময় নিজের ধারণাগুলো যাচাই করতে হয়। পাল্টা যুক্তি ভাবতে হয়। প্রয়োজন হলে উৎসও উল্লেখ করতে হয়।

নিজের লেখা সংশোধন করাও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে নিজের ভুল বোঝা যায়। একইসঙ্গে নিজেকে আরও ভালো করার সুযোগ তৈরি হয়।

অন্যের মতামত নিলে লেখার প্রক্রিয়াটি সামাজিকও হয়ে ওঠে। লেখালেখি মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ দেয়।

এমনকি লেখালেখি মানসিকভাবেও উপকারী হতে পারে। এ কারণে থেরাপিস্টরা কখনো কখনো মানুষকে ডায়েরি লিখতে বলেন।

তবে এআইয়ের সঙ্গে লিখলে এসব সুবিধা একইভাবে পাওয়া যায় কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

সতর্ক হওয়ার কারণও আছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে গত বছর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি ছোট গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়। এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে লেখা এবং এআই ছাড়া লেখার মধ্যে সেখানে পার্থক্য দেখা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, এআই ব্যবহার করে যারা লিখেছেন, লেখার সময় তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম তুলনামূলক কম ছিল। তারা কী লিখেছিলেন, সেটিও মনে রাখতে বেশি সমস্যা হয়েছে। নিজেদের লেখার সঙ্গে তাদের মালিকানাবোধও কম ছিল।

এ ফলাফল এমন আরও কিছু গবেষণার সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে বলা হয়েছে, নিয়মিত এআই ব্যবহার মানুষের সমালোচনামূলক চিন্তার ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে।

এদিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এআইনির্ভর লেখার সহকারী জোরালোভাবে প্রচার করছে।

তবে শিক্ষার জন্য তৈরি নতুন এআই ব্যবস্থাগুলো পুরো লেখা লিখে দেওয়ার বদলে শিক্ষার্থীদের পথ দেখানোর কথা বলছে। গুগল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান এমন চ্যাটবট তৈরি করছে, যেগুলো শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করে তাদের নিজের চিন্তা তৈরি করতে সাহায্য করার কথা।

Image
Wavy_Tech-20_Single-09
ছবি: ফ্রিপিক

একটি পরীক্ষায় গুগলের জেমিনি গাইডেড লার্নিং এবং ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি স্টাডি মোডকে কলেজের প্রথম বর্ষের একটি রচনা লেখার কাজ দেওয়া হয়।

শুরুতে চ্যাটবটগুলো শিক্ষার্থীদের মতো করে প্রশ্ন করছিল। যেমন, কোথায় বড় হয়েছেন, বইটি কোথায় পড়েছেন, কোনো চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে কেন মিল মনে হয়েছে ইত্যাদি।

কিন্তু পরে চ্যাটবটগুলোই রচনার বিস্তারিত কাঠামো তৈরি করতে শুরু করে। সরাসরি রচনা লিখতে বলা হলে তারা তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু অনুচ্ছেদ কেমন হতে পারে, তা জানতে চাইলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অনেক পরিপাটি লেখা তৈরি করে দেয়।

এআইয়ের সীমা কোথায়

এখন শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, লেখার কাজ যদি সহজেই প্রযুক্তির হাতে তুলে দেওয়া যায়, তাহলে তাদের চিন্তার বিকাশ কীভাবে ঠিক রাখা যাবে?

লেখার ক্ষেত্রে এআইয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার অবশ্যই আছে।

লেখালেখি বিশেষজ্ঞ ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষামনোবিজ্ঞানী স্টিভ গ্রাহামের মতে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়, তাদের জন্য এআই বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

চ্যাটবট ব্যাকরণ ঠিক করতে পারে। অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিতে পারে। বক্তব্য আরও পরিষ্কার করার পরামর্শ দিতে পারে।

যারা হাতে লিখতে বা টাইপ করতে পারেন না, তাদের জন্য ভয়েস-টু-টেক্সট প্রযুক্তিতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 ছবি: ফ্রিপিক

এআই ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা কোনো মানুষের বিচার বা সমালোচনার ভয় ছাড়াই লেখার বিষয়ে সাহায্য পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব শিক্ষার্থীর সাক্ষরতার দক্ষতা প্রাথমিক স্তরের নিচে, তাদের অনেকের জন্য লেখার কাজ কঠিন ও বিব্রতকর হতে পারে।

তবে ড. গ্রাহাম সতর্ক করে বলেছেন, লেখার কোনো অংশ এআইয়ের হাতে তুলে দিলেও তার কিছু মূল্য দিতে হয়।

ভাবনা তৈরি থেকে শুরু করে শেষ লেখা ঠিক করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই শেখার সুযোগ থাকে। যদি লেখা চিন্তা করার একটি প্রক্রিয়া হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার কোনো অংশ প্রযুক্তির হাতে তুলে দেওয়া মানে নিজের চিন্তার কিছুটা স্বাধীনতা ছেড়ে দেওয়া।

এ কারণেই লেখালেখি বিশেষজ্ঞদের একটি দল স্কুলগুলোর জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছে।

তারা এআই পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলেনি। বরং স্কুলগুলোকে লেখার জন্য কম সময় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে বলেছে।

তাদের মতে, লেখার গুরুত্ব শুধু চাকরির জন্য নয়। লেখার মাধ্যমে মানুষের চিন্তাশক্তিও বাড়ে।

তাদের পরামর্শ হলো, পুরো শিক্ষাক্রমে লেখাকে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাক্য, অনুচ্ছেদ এবং শেষে পূর্ণাঙ্গ রচনা লেখার অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে।

তারা নিজেদের জীবন, পড়া গল্প, বই এবং অন্যান্য লেখা নিয়ে লিখতে পারে। এতে ব্যাকরণ ও শব্দভাণ্ডারের দক্ষতা বাড়বে। একইসঙ্গে তারা যা শিখেছে, সেটিও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।

তবে এআইয়েরও জায়গা আছে। শিক্ষকরা যে বিষয় পড়াচ্ছেন, সে বিষয়ে আকর্ষণীয় লেখার বিষয় তৈরি করতে এআই ব্যবহার করতে পারেন। শিক্ষার্থীরা লেখা জমা দেওয়ার আগে এআইয়ের কাছ থেকে প্রাথমিক মতামতও নিতে পারে।

তবে এআই ব্যবহারে সীমা রাখা দরকার।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনি এমন একটি নীতি নিয়েছে, যাকে ‘টু-লেন অ্যাপ্রোচ’ বলা হচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে কিছু পরীক্ষা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে এআই ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকে। আবার অন্য পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করার দক্ষতাও দেখাতে পারে।

ছবি: ফ্রিপিক

একটি স্কুলের সৃজনশীল লেখার ক্লাসে শিক্ষার্থীদের চ্যাটবট দিয়ে কবিতা লিখতে দিয়েছিলেন এক শিক্ষক। ফলাফল ছিল বেশ সাধারণ ধরনের।

এরপর শিক্ষার্থীদের চ্যাটবট দিয়ে কবিতাগুলো সংশোধন করতে বলা হয়। কোথায় চ্যাটবট ভালো করেছে এবং কোথায় দুর্বল ছিল, সেটিও তাদের ভাবতে বলা হয়।

তবে অনেক শিক্ষকের মতো ওই শিক্ষকও বাড়ির কাজে এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তিনি তার উচ্চতর ইংরেজি কোর্সে রচনা লেখার বড় একটি অংশ শ্রেণিকক্ষে কলম ও কাগজে করার ব্যবস্থা করেন।

বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এতে অভিযোগ করেনি। এআই নিয়ে প্রথম দিকের আগ্রহের পর অনেকেই এর ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

একজন শিক্ষার্থী বলেছিল, বিজ্ঞান গবেষণায় তথ্য বিশ্লেষণের কাজে চ্যাটজিপিটি তাকে সাহায্য করে। কিন্তু সাহিত্যের কঠিন লেখা বিশ্লেষণ করে রচনা লেখার ক্ষেত্রে চ্যাটবট ব্যবহারের ঝুঁকি সে বুঝতে পেরেছে।

ছবি: ফ্রিপিক

তার কথা ছিল, কঠিন লেখা বিশ্লেষণ করাই যদি নিজেকে দক্ষ করে তোলার অনুশীলন হয়, তাহলে চ্যাটবট দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নিলে সেই দক্ষতা তৈরি হবে না।

আরেক ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী চ্যাটবটের লেখা তৈরির পদ্ধতি দেখে এর মৌলিকতার অভাব বুঝতে পারে। তার মনে হয়েছে, পুরো ইন্টারনেটের তথ্য চ্যাটবটের সামনে থাকায় এটি অনেক সময় একই ধরনের ধারণা নতুন করে তৈরি করে।

তাই ভবিষ্যতের কর্মবাজারে নিজের মূল্য ধরে রাখতে মানুষের নিজস্ব চিন্তা, ধারণা ও দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।