পদ্মায় বাসডুবি

ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান চলছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবিতে নিখোঁজদের সন্ধানে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে।

আজ শুক্রবার সকালে ফায়ার সার্ভিস রাজবাড়ী স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল, আজ সকাল ৮টার পর থেকে ডুবুরি দল আবারও কার্যক্রমে শুরু করেছে।

‘ফায়ার সার্ভিসের ছয়জন ও নৌবাহিনীর ছয়জন মিলে দুটি দলের মোট ১২ সদস্যের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে,’ বলেন রানা।

বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, এ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর থেকে স্বজনরা রাজবাড়ী এলে বাকি একজনের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। বর্তমানে তার মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রয়েছে, জানান তিনি।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গত রাত পর্যন্ত নতুন করে কেউ কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান চাননি।

তবে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাসিন্দা মুক্তা আক্তার (সোহানা শোভা) ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়েছেন, তার বড় ভাই রিপন শেখ নিখোঁজ রয়েছেন।

রিপন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামের মৃত আবদুল বারেক শেখের ছেলে।

মুক্তা সাংবাদিকদের জানান, রিপন শেখ (৪০) ইটভাটার শ্রমিক। দুর্ঘটনার দিন দুপুরের পর রিপন তার আরেক ভাই সুমন শেখের সঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সুমন ঢাকার ইসলামপুরের একটি কারখানার শ্রমিক।

বিকেলে রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজার মুরগির ফার্ম বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানে সুমন চা খেতে গিয়েছিলেন। রিপন সে সময় বাসস্ট্যান্ডে ছিলেন। ফিরে এসে সুমন তার ভাইকে খুঁজে পাননি। রিপনের কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সুমন ঢাকায় চলে আসেন।

‘ঢাকা পৌঁছে বড় ভাই (রিপন) ফোন কিনতে চেয়েছিলেন। সে কারণে পুরোনো ফোন বাড়িতে রেখে বের হয়েছিলেন। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনার পর থেকে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি,’ বলেন মুক্তা।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে সোহেল রানা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যে ব্যক্তির নিখোঁজের বিষয়টি আমাদেরকে জানানো হয়েছে, তার পরিবার নিশ্চিত করতে পারেননি যে ওই ব্যক্তি সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রী ছিলেন কি না। তারপরও আজ সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মতো আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’