বরগুনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে ৩ জন এক পরিবারের, ৬ জন নিকটাত্মীয়

সোহরাব হোসেন
সোহরাব হোসেন

বরগুনার আমতলীতে সেতু ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ে নিহত ৯ জনের মধ্যে তিন জনই একই পরিবারের এবং অন্য ছয় জন তাদের নিকটাত্মীয়। তাদের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামে।

আজ শনিবার দুপুরে বরগুনার আমতলী এলাকার আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় হলদিয়া খালের ওপর লোহার ব্রিজ ভেঙে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খালের পানিতে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর নারী-শিশুসহ ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন সাবেক সেনা সদস্য ও সাহা পাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমান খানের ছেলে মাহাবুব খান সবুজ।

তিনি জানান, আমতলীতে তার খালাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনিসহ তার ১৭ জন আত্মীয় মাইক্রোবাসে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে আজ দুপুরে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি হলদিয়া খাল পার হতে গিয়ে ব্রিজ ভেঙে পড়ে যায়। এতে তার মামার পরিবারের তিন জন এবং তার পরিবারের দুজনসহ আরও চার জন নিকটাত্মীয় মারা যান।

নিহতরা হলেন, মাহাবুবের মা ফরিদা বেগম (৪০), তার ভাই সোহেলের স্ত্রী রাইতি (৩০), সোহেলের শাশুড়ি রুমি বেগম (৪০), মামানি মুন্নি বেগম (৪০), তার সন্তান তাহিয়া (৭) ও তাসদিয়া (১১), আরেক মামি ফাতেমা বেগম (৪০)। আরও নিহত হন জাকিয়া ও রিদি নামে বরগুনার আমতলী এলাকার তার আর দুই আত্মীয়।

মাহবুবের মামা দুলাল মাতুব্বর বলেন, পুরো গ্রামে শোকে স্তব্ধ। আমরা খবর পেয়ে মাহাবুবের বাড়িতে এসেছি। ওদের পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। সবাই ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। মরদেহগুলো এখানে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং দাফনেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ভদ্রাসন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বেপারী মুঠোফোনে বলেন, আমরা খবর পেয়েই মাহবুবের বাড়িতে এসেছি। এত বড় দুর্ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ।