ঝিনাইদহে পিটুনিতে ‘বৈষম্যবিরোধী’ নেতার মৃত্যু: ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর, ৩ বাসে আগুন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশন ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
গতরাতে শহরের আরাপুর এলাকায় ফিলিং স্টেশন ভাঙচুর করা হয়। অন্যদিকে টার্মিনালে রাখা তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় পোড়া বাসগুলো রাস্তায় রেখে ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে ওই রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় তাজ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের মারধরে নীরব আহমেদ (২২) নামের এক তরুণ নিহত হন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে। বাবার নাম আলিমুর রহমান।
নীরবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে একদল লোক তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন শহরের আরাপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালান। সেই সঙ্গে গভীর রাতে টার্মিনালে রাখা তিনটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, আরাপুরের ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর ও বাস টার্মিনালে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে। তিনি বলেন, বাস পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা করা হবে। টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, ‘রাতে ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত টার্মিনালে রাখা তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে। তাদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। নিরাপত্তা না পেলে রাস্তায় গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না।’
প্রশাসনের আশ্বাসে পরে শ্রমিকেরা বেলা ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন বলে জানান তিনি।
তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। রাতে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ তার মালিকানাধীন আরেকটি ফিলিং স্টেশন ভাঙচুর এবং একটি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নীরব হত্যার ঘটনায় পুলিশ ওই রাতেই ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মচারীকে আটক করেছে।