চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আজ সোমবার ভোর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।
সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) প্রায় চার হাজার সদস্য এ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. রাসেল জানান, যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত ফলাফল ও উদ্ধার বা আটকের তথ্য পরে জানানো হবে।
দুর্গম পাহাড়ী এলাকা জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘ দিন ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। গত জানুয়ারিতে সেখানে অভিযানে গিয়ে অপরাধীদের হামলায় এক র্যাব কর্মকর্তা নিহতের পর এলাকাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার পর থেকেই সেখানে সশস্ত্র অপরাধীদের দমনে সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা ছিল প্রশাসনের। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে তা তখন স্থগিত করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ২৫৬ একর পাহাড়ী ভূমি জুড়ে এই এলাকা বিস্তৃত। দুর্গম ভূখণ্ড ও লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অপরাধীরা এখানে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে।
জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, জঙ্গল লতিফপুর ও জঙ্গল সলিমপুরসহ ৫টি মৌজার প্রায় ৩ হাজার ৭০ একর খাস জমি বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই পাহাড়ী এলাকা।
অভিযোগ রয়েছে, মো. ইয়াসিন এবং রোকনউদ্দিনের নেতৃত্বে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ করে। গত দুই দশকে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে প্লট তৈরি ও সরকারি জমি দখল করে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। স্থানীয়দের কাছে ইয়াসিন ‘রাজা’ হিসেবে পরিচিত।
গত বছরের ৪ অক্টোবর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এখানে একজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর পরদিন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।
২০২২ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের কোতোয়ালি এলাকা থেকে পুলিশ ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করে। তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখা ও স্থানীয়দের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।