শৈলকুপায় ভিজিএফের কার্ড বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪৫

সংবাদদাতা, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ঈদুল ফিতরের আগে ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে কয়েক দফায় এ ঘটনা ঘটে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মির্জাপুর ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে চাল বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মণ্ডলের কাছে একটি কার্ড চান যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এ নিয়ে দুজন তর্কে জড়ান। সন্ধ্যায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় মাতব্বররা গ্রাম্য সালিশে বসেন। 

তবে একপর্যায়ে সায়েম ও শামীমের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তবে সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং বিতরণের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। 

‘পরে যা ঘটেছে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে,’ তিনি যোগ করেন।

যুবদল নেতা শামীম অভিযোগ করেন, ওয়ার্ড সভাপতি সায়েম মণ্ডলের কাছে একাধিক ভিজিএফ কার্ড ছিল। শামীম তার সমর্থকদের জন্য কিছু কার্ড চাইলে সায়েম তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ও সহযোগীদের মাধ্যমে হুমকি দেন। 

শামীম আরও দাবি করেন, মীমাংসা বৈঠকের অজুহাতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

নিয়ম অনুযায়ী কার্ড বিতরণ করেছেন দাবি করে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মণ্ডল বলেন, ‘শামীম যুবদলের সঙ্গে জড়িত। সে আমার সঙ্গে মূল দল বিএনপির হয়ে কাজ করে না। তাই তাকে কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি।’