আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তিতে উল্লেখযোগ্য গতি

আশুতোষ সরকার
আশুতোষ সরকার

গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেওয়া কিছু পদক্ষেপের কারণে এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক বিবৃতি অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চ গত ৫ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাত্র ৩৩ কার্যদিবসে চার হাজার ৪২৯টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ কার্যদিবসে মোট দুই হাজার ২৭০টি মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবসে মোট দুই হাজার ১৫৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যানগুলো পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় বিচারিক কার্যক্রমে বা বিচার প্রদানের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য গতির ইঙ্গিত দেয়।

গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে মাত্র দুই হাজার ২৫৭টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। ওই একই সময়ে চার হাজার ৬৭২টি নতুন মামলা দায়ের হয় এবং ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা (বিচারাধীন) মামলার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৪১৭টি।

গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আপিল বিভাগে মোট চার হাজার ৯৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং আদালত মোট দুই হাজার ৭২টি মামলা নিষ্পত্তি করেছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের অন্য এক বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন মামলা দায়ের এবং নিষ্পত্তির হিসাব শেষে গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতে মোট ৩৭ হাজার ২টি মামলা বিচারাধীন ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দীর্ঘদিনের মামলা জট নিরসনে নতুন এক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিচারাধীন বিষয়গুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিকে তার বিচারিক এজেন্ডার মূল কেন্দ্রে রেখেছেন। তার এই প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান ফলাফল দিতে শুরু করেছে।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গত ৫ জানুয়ারি ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আপিল বিভাগের পুরনো মামলাগুলো দ্রুত শেষ করার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এর লক্ষ্য হলো মামলার কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কতটি নতুন মামলা জমা পড়েছে বা বর্তমানে মোট কতটি মামলা ঝুলে আছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নতুন বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, মামলা নিষ্পত্তির এই গতি বৃদ্ধি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বরং এটি একটি সচেতন প্রশাসনিক কৌশলের প্রতিফলন।

কর্মকর্তারা এই অগ্রগতির পেছনে কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা মামলাগুলোর শুনানি করা, কঠোর সময়সূচি বজায় রাখা ও বেঞ্চগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয়, মামলার গতিবিধি ও শুনানি মুলতবির ওপর জোরদার নজরদারি এবং বিচারিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ।

কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ আদালতে প্রচলিত নিয়মমাফিক জড়তা কাটিয়ে একটি কার্যকর ও ফলাফল-নির্ভর সংস্কৃতি তৈরির লক্ষ্যেই এই অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। 

যোগাযোগ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মো. মাজহারুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, মামলার জট কমাতে প্রধান বিচারপতি যেসব বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার ফলেই এখন রেকর্ড পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই অর্জন মূলত দেশের মানুষের জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির অটল সদিচ্ছারই প্রতিফলন।