দুদকের মামলায় শাহজাদপুরের পিআইও আজাদ গ্রেপ্তার
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রোববার রাতে পাবনার গোপালপুর এলাকা থেকে দুদক ও পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।
আবুল কালাম আজাদ পাবনার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের শমসের আলী মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি সপরিবারে পাবনা পৌর শহরের শালগাড়িয়া সদর হাসপাতাল রোডে বসবাস করেন।
দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর এসব তথ্য জানান।
দুদকের মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি ও সরকারি অর্থ নিজ স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলা করে দুদক।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে প্রাথমিক অনুসন্ধানে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ৮ মে তার সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয় দুদক। একই বছরের ৩ জুলাই নিজের সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন আবুল কালাম আজাদ।
বিবরণী যাচাইকালে দেখা যায়, আবুল কালাম আজাদ কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৯ লাখ ৪২ হাজার ২৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া, অনুসন্ধানে তার আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিশন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১১ মার্চ তিনটি ও ২২ অক্টোবর একটি মামলা করা হয়।
দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ১৯ ধারা ও ২২ ধারার ক্ষমতাবলে তদন্তকালে আমরা যেকোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারি। গতকাল রোববার তাকে গ্রেপ্তারের পর আজ দুপুরে তাকে পাবনা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’