বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে তিন মরদেহ উদ্ধারের ৬ দিন পর হত্যা মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

বরগুনায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ছয় দিন পর হত্যা মামলা  হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে বরগুনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে  মামলাটি করেন নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তখন থানায় উপস্থিত ছিলেন ইতি রানীর ভাই মিত্র সরকারসহ অন্য স্বজনেরা।

ওসি বলেন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দুলাল চন্দ্র বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা মাঠে কাজ করছে।

দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস গত ৬ জুন থানায় এবং ৮ জুন বরগুনা আদালতে মামলা করতে যান। তবে মামলা দায়ের করতে পারেননি।

গত ৩ জুন বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে ইতি রানী ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে শুরু থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের আইনজীবী মাসুদ খান গত ৮ জুন এ ঘটনায় বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানের আদালতে বাদীর মামলার আবেদন উপস্থাপন করেন। আদালত মামলাটি আমলে না নিয়ে এ ঘটনায় দায়েরকৃত অপমৃত্যু মামলা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

৬ জুন শনিবার রাতে দুলাল চন্দ্র বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলার এজাহার দিতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি। আইনজীবী মাসুদ খান জানান, পুলিশ সেদিন বলেছিল, এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের বিষয়টি তদান্তাধীন।

দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের করতে পেরেছি। সুষ্ঠু তদন্ত হলে ন্যায় বিচার পাব বলে আশা করি। আমি বারবার দাবি করেছি, আমার স্ত্রী ইতি রানী ও দুই মেয়ে আরাধ্যা ও অনুরাধাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ‘অজ্ঞাত’ উল্লেখ করা হলেও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও আলামত বিশ্লেষণ এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।