লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারওয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন কক্সবাজারের একটি আদালত।
এ মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে পাঁচ আসামিকে।
আজ বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা—মো. হেলাল উদ্দিন, নুরুল আমিন, মো. নাসির উদ্দিন ও মোর্শেদ আলম। তাদের মধ্যে মোর্শেদ আলম পলাতক রয়েছেন। প্রত্যেকেই চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার পর প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘তরুণ সেনা কর্মকর্তা দেশের সেবায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তার পরিবার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, রাষ্ট্র ও দেশের মানুষ সবাই বিচার নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা করেছিল।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আহসান সেজান বলেন, ‘বুধবার হত্যা ও অস্ত্র আইনের মামলার রায় একসঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ১৩ আসামিকে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় অতিরিক্ত ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্ত ৫ আসামির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
যাবজ্জীবন সাজা ও অস্ত্র আইনে পৃথক শাস্তির বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে পঞ্চম ও ষষ্ঠ আসামির আইনজীবী তাহসিন সিফাত বলেন, ‘আসামিরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই আমরা উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মইজপাড়া এলাকায় ডাকাতবিরোধী অভিযানের সময় ২৩ বছর বয়সী লেফটেন্যান্ট তানজিম সারওয়ার নির্জন নিহত হন।
টাঙ্গাইলের বাসিন্দা তানজিম ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশনপ্রাপ্ত হন ও আর্মি সার্ভিস কোরে কর্মরত ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করে।
ঘটনার দুই দিন পর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ হত্যা ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পৃথকভাবে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
