খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা

খুলনায় গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের মামলায় সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় কুমার সরকার ও তার স্ত্রী এএসআই পপি রানী সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর মা মিনতি রানী দাস তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 

তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গতকাল বুধবার বিকেলেই ওই দম্পতিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী মিলন দাস (২২) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার অখিল চন্দ্রের মেয়ে। গত পাঁচ বছর ধরে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় কাজ করছিলেন তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রবিউল গাজী উজ্জ্বল (পেশায় সাংবাদিক) জানান, গতকাল বিকেলে খুলনা সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের ভবনের ভেতরে একজনকে নির্যাতন করতে দেখেন। দূর থেকে পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় রেকর্ড করেন তিনি। পরে জানতে পারেন, সবজি পুড়ে যাওয়ার কারণে ওই গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গরম কড়াই দিয়ে ওই তরুণীর শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ মিলনকে ওই বাসা থেকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তারা সকালে খুলনায় এসে মামলা করেন।

এএসআই সঞ্জয়কে আদালতে পাঠানো হয়েছে ও তার স্ত্রী পপি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে (কারাগার কক্ষ) চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে খুলনা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজন্তা দাস বলেন, তারা দুজনেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এমন অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।