বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অটোরিকশাচালককে ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক অটোরিকশাচালক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে প্রায় ১০ ঘণ্টা চিকিৎসা না দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি মাদরাসার মোহতামিমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।
আহত বাবুল মিয়া (৪৮) উপজেলার বড়চালা গ্রামের বাসিন্দা।
গতকাল রোববার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার টোক ইউনিয়নের বীর উজলী বাজার এলাকায় অবস্থিত খাইরুল উম্মাহা ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় ৯টার দিকে বিষয়টি পুলিশকে জানায় ভুক্তভোগীর পরিবার।
আহতের স্বজন অনিক জানান, হাজী রিয়াজ উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ভবনে ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে মাদরাসাটি। তার দাবি, কিছুদিন আগে বাবুল মিয়ার একটি অটোরিকশা মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইছিলেন।
অনিকের ভাষ্য, রোববার সকালে মাদরাসার মোহতামিম দিদারুল ইসলাম খাইরুল অটোরিকশার বিষয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বাবুল মিয়াকে ডেকে নেন। সেখানে গিয়ে কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তবে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে একটি কক্ষে রাখা হয়।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভবনের মালিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে বাবুল মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। অনিকের দাবি, তার বাম হাতের পুরো অংশ এবং ডান হাতের কনুই পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আহতের ছেলে শামিম বলেন, সকালে খাইরুল হুজুর আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে কাজ করার সময় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে বাবা গুরুতর আহত হন। কিন্তু তাকে হাসপাতালে না নিয়ে মাদরাসার একটি কক্ষে রাখা হয়। পরে রাতে খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।
তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকেরা বাবুল মিয়াকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়।
টোক-নয়ান বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাইন উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, আহত ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেন তাকে চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে এখনো কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাবুল মিয়া বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খাইরুল উম্মাহা ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসার মোহতামিম দিদারুল ইসলাম খাইরুল বলেন, কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুতের শর্ট খেয়ে আহত হয়েছেন।
দীর্ঘ সময় চিকিৎসা না দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।
এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।