ময়মনসিংহে প্রাণী-চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
ময়মনসিংহ নগরীতে চেম্বারে ঢুকে প্রাণী-চিকিৎসককে জুতা দিয়ে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার সকালে নগরীর মাসকান্দা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আফরিন রশিদ সেঁজুতি (২৩) মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের জিলা স্কুল এলাকায় ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ চেম্বারে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক আশিকুর রহমান।
এতে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান প্রতীক, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবুল হাসানসহ আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
মো. আশিকুর রহমান 'ডক্টরস পেট কেয়ার’ চেম্বারে বিড়ালের চিকিৎসা ও পোষা প্রাণীর আনুষঙ্গিক উপকরণ বিক্রি করেন।
মারধরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী চেম্বারে ঢুকে জুতা খুলে চিকিৎসক আশিকুর রহমানকে মারধর করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে তালহাজুর রহমান প্রতীক মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেন। পরে তাকেও চিকিৎসকের ওপর হামলা করতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় তালহাজুর রহমান প্রতীককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়।
মামলার বরাতে ওসি জানান, চিকিৎসক আশিকুর রহমানের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় চেম্বারে এসে চাঁদার জন্য চাপ দেওয়া হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এরপর সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে চেম্বারের কর্মী ঈশান আহমেদ, তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার ও চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর করা হয়।
এছাড়া, হামলার পর চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে তিন লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা লুট করা হয়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে ইতোমধ্যে আফরিন রশিদ সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'