যুবলীগকর্মীকে ধরতে বাসায় অভিযান, না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

ঢাকার ধামরাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক কর্মীকে ধরতে বাসায় অভিযান চালিয়ে না পেয়ে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন (৬০) ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রিফাত আহমেদ যুবলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।

কলিম উদ্দিনকে একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।

কলিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০) ডেইলি স্টারকে জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০-১২ জন পুলিশ বাড়িতে এসে কড়া নাড়ে। পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর তার স্বামী দরজা খুলে দেন। সেসময় তিনি, তার স্বামী, মেয়ে ও ছেলের বউ বাড়িতে ছিলেন।

তিনি বলেন, 'তারা (পুলিশ) প্রথমে আমার ছেলে রিফাত সম্পর্কে জানতে চায়। ছেলে বাড়িতে নেই ও রাজনীতির কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ নেই জানালে পুলিশ আমার স্বামীকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর আজ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।'

'আমার স্বামী কৃষক, তিনি রাজনীতি করেন না। তার নামে কোনো মামলাও নেই। ছেলে রাজনীতি করে বলে আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করে হয়রানির মধ্যে ফেলে দিলো,' বলেন তিনি।

কলিম উদ্দিনের মেয়ে হ্যাপী আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার ভাই রাজনীতি করে, এটা সত্য। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি বাড়িতে আসেন না। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগও নেই। আমার বাবা কখনোই রাজনীতি করেননি। ভাইকে না পেয়ে পুলিশ বাবাকে নিয়ে গেছে। তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অন্যায় হয়েছে।'

জানতে চাইলে ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, 'কলিম উদ্দিনের ছেলে রিফাত আহমেদ যুবলীগের নেতা। তার নেতৃত্বে কিছুদিন আগে মিছিল হয়েছে। কাউলিপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রিফাতের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। ইনচার্জ বলেছেন, তার পুরো পরিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক। সে কারণে কলিম উদ্দিনকে পেন্ডিং একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।'

কলিম উদ্দিনের নামে কোনো মামলা আছে কি না, বা তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতা কি না—এমন তথ্যের জবাবে ওসি বলেন, 'না, তার নামে কোনো মামলা ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক—এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'

হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে নিজেকে যুবলীগকর্মী দাবি করে রিফাত আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি যুবলীগের কোনো নেতা নই, সক্রিয় কর্মী, মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছি। আমার জন্য পুলিশ হয়রানি করতে আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।'