রিমান্ড শেষে কারাগারে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল
ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে ২ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে আজ বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুল এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে পুলিশ। সেদিনই রাকিবুলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তার আরও ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১৭ সেপ্টেম্বর সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ সম্পর্কে রাকিবুলের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ওই অডিও ক্লিপে ওসিকে পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাকিবুলের কণ্ঠ বলে দাবি করা ওই অডিওতে বলা হয়, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসছেন। কিছুই হবে না। রাস্তায় পুলিশের অবস্থা কতটা দুর্বল, তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। তার এ মাসেই আসা উচিত ছিল ... তিনি এলে এই পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।
মামলার নথি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসামির ঘৃণা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেশে দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিষয়ে তার মন্তব্য দেশের পরিবেশ উত্তপ্ত করতে এবং সহিংস বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পর্যাপ্ত প্ররোচনা ও উসকানি যুগিয়েছে।
আদালতে পেশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অবজ্ঞা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছেন এবং সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারের সমালোচনা করেছেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন এবং সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করেছেন। তারা জ্যেষ্ঠ কর্তৃপক্ষ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অবজ্ঞা, শত্রুতা ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং জনগণের মধ্যে ঘৃণা ও উসকানি ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
