মাদারীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ, আহত ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত একজন।

গত শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সুমন নামে একজন আহত হন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। মূলত পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত শতাধিক ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। যে পক্ষ দুটি সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তারা মূলত একে অপরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। আগেও তারা এ ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। আগের দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন শহর মাদারীপুর গ্রামের আক্তার হাওলাদার এবং হাসান মুন্সি ও লাভলু হাওলাদারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল।

এরই জেরে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চর কুকরাইল জজ কোর্ট এলাকায় আক্তার হাওলাদারের সমর্থক খালেক বেপারীর ছেলে রানা বেপারীর ওপর হামলা চালায় নতুন মাদারীপুর গ্রামের হাসান মুন্সি পক্ষের শাকিব, টুটুলসহ ১০-১৫ জন কিশোর। হামলায় রানা বেপারীর ডান হাত ভেঙে যায়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে আহত হন অন্তত একজন। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী (সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ) ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি হাতে টর্চলাইট নিয়ে বিপরীত দিকে আলো ছুড়ছেন। বিপরীত দিক থেকেও টর্চলাইটের আলো ছোড়া হচ্ছে। টর্চলাইটধারীদের হাতে ঢাল, দেশীয় রামদা ও বল্লম ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিপক্ষের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করছেন। আবার একজনকে বলতে শোনা যায়, “সামনে আগা মারতে থাক, মার মার, বেশি করে মার, ধর ওরে ধর।”

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগেও সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামের আক্তার হাওলাদার এবং হাসান মুন্সি ও লাভলু হাওলাদারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবারের ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। তিনি মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর, ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও চারটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।