প্রথমবারের মতো ‘অ্যান্টার্কটিকা ম্যারাথন’ দৌড় শেষ করলেন ২ বাংলাদেশি
দুই বাংলাদেশি নাগরিক গত ৯ মার্চ ‘অ্যান্টার্কটিকা ম্যারাথন’ দৌড়ে অংশ নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। প্রথমবারের মতো বরফাচ্ছাদিত মহাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন দৌড় শেষ করেন তারা।
একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মতে, ৪২ দশমিক দুই কিলোমিটার দৌড় শেষ করে ফিনিশিং লাইন পেরিয়ে যান এজাজ আহমাদ ও আসিফ জহির। দলগতভাবে তারা এই ম্যারাথনে অংশ নেন।
ড্রেক প্যাসেজ দিয়ে দুইদিন নৌপথে যাত্রা করে তারা ম্যারাথন দৌড় শুরুর জায়গাটিতে পৌঁছান। এই জলপথকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদসংকুল পথের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এরপর তারা আগ্নেয়গিরি থেকে ভেঙে পড়া বড় পাথর, কাদা ও পাথুরে পথের ওপর দিয়ে ৪২ দশমিক দুই কিলোমিটার পথ দৌড়ান।
এ সময় তারা চীন, আর্জেন্টিনা ও চিলির গবেষণাকেন্দ্র পার হন। চলতি পথে তারা অসংখ্য হিমবাহের মুখোমুখি হন।
অ্যান্টার্কটিকা ম্যারাথনে একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ১০০ জন অংশ নিতে পারেন।
এজাজ আহমাদ বলেন, ‘বেশিরভাগ মানুষের কাছে অ্যান্টার্কটিকা একটি সাদা মহাদেশ। কিন্তু আমরা কাদা ও উন্মুক্ত পাথরের ওপর দিয়ে দৌড়ে গেছি। প্রতি বছর সেখানে ১৫০ গিগাটন বরফ গলে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশের অন্যতম বাংলাদেশ। ধারণা করা হয়, এই সমস্যায় অন্য সবার আগে বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে।’
‘অ্যান্টার্কটিকার এই রূপান্তরিত পরিবেশে ম্যারাথনে অংশ নেওয়াটা আমাকে মনে করিয়ে দেয়, নতুন প্রজন্মকে এই পরিণতির অপেক্ষায় বসে থাকলে চলবে না’, যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের (জিওয়াইএলসি) প্রতিষ্ঠাতা এজাজ আহমাদ। বর্তমানে বিওয়াইএলসির নির্বাহী চেয়ারপার্সন ও জিওয়াইএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকায় আছেন তিনি।
পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীদের সহায়তা দেয় এমন সব প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এজাজ আহমেদ।
বাংলাদেশে দৌড়ের আয়োজন করে বিওয়াইএলসি।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রচারণা চালায় এই সংগঠনটি।
অনন্ত গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও গুগলের সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার আসিফ জহির বলেন, ‘এই দৌড়ের মধ্যে বাংলাদেশি চেতনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রতিফলিত হয়েছে—সহনশীলতা ও সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার অনাগ্রহ। আমরা দেখাতে চেয়েছি যে আমাদের দেশের মানুষের জন্য অসম্ভব বলে কিছু নেই। দেশের কোনো মানুষ যেখানে এর আগে যেতে পারেনি, সেখানে যাওয়ার সাহস দেখাতে হবে।’



