ঈদযাত্রায় গণপরিবহনে তেল নিয়ে সংকট হবে না, ভাড়া বাড়বে না: রবিউল আলম
আসন্ন ঈদযাত্রায় গণপরিবহনে তেল নিয়ে সংকট হবে না এবং ভাড়া বাড়বে না বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পরিবহনের ক্ষেত্রে রেশনিং ব্যবস্থা থাকবে কি না সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
রবিউল বলেন, ‘তেলের কোনো সমস্যা হবে না। তেলের দাম বাড়বে না। বিশেষ করে গণপরিবহনে যতটুকু তেল প্রয়োজন, ১৫ মার্চ থেকে অবাধে পাবে সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী আমাকে নিশ্চিত করেছেন।’
‘ফলে ভাড়া বাড়ছে না। আর তেল সংক্রান্ত দুর্ভোগ হওয়ার সম্ভাবনা আমি দেখছি না,’ যোগ করেন তিনি।
ব্যক্তিগত পরিবহনের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা থাকবে—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওটা বিবেচনা করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, ১৫ তারিখের পর থেকে রেশনিং ব্যবস্থা এভাবে থাকবে কি না তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা চলে আসে...বড় একটা সংকট, আমরা এখনো তো সংকট থেকে বের হতে পারিনি। আশঙ্কা আছে, সংকটের মধ্যে আছি, আমাদের সক্ষমতা দিয়ে আমরা মোকাবিলা করতে চাচ্ছি। একটা সংকট যখন হয়, সবাইকে একটু স্যাক্রিফাইস তো করতেই হবে! নিশ্চয়ই জনগণকেও কিছু না কিছু তো করতে হয়।’
রেলে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৮৫ থেকে ৮৭টি লোকোমোটিভ যদি আমরা অ্যারেঞ্জ করতে পারি, তাহলে শিডিউল বিপর্যয়ের কোনো সম্ভাবনা আশা করি এই ব্যবস্থাপনায় থাকবে না। ইতোমধ্যে আমরা ৭৮টি লোকোমোটিভ যুক্ত করতে পেরেছি। আরও দুই দিনের মধ্যে কয়েকটি লোকোমোটিভ যদি যুক্ত হয়ে যায়, কোচের সংখ্যা যা বাড়িয়েছি, স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা যা বাড়িয়েছি, চাপ থাকলেও আমরা ম্যানেজ করতে পারবো।’
রবিউল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রেল সেবা বা রেল যোগাযোগ যুগোপযোগী করে, মনোরম পরিবেশে, স্বচ্ছন্দে অল্প সময়ে অধিক দূরত্বে যাওয়ার জন্য জনবান্ধব করতে চান, জনপ্রিয় করতে চান। সে ব্যাপারে তার নির্দেশনা আছে। সেভাবে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার একটা আমূল পরিবর্তন আপনারা দেখবেন।’
‘রেল, সড়ক এবং নৌ, সব জায়গায় এবার দেখবেন, আগে যে ব্যবস্থাপনা ছিল তার মধ্যে থেকে বেশ কিছুটা পরিবর্তন আমরা আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই সেবা অথবা যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার সাথে যারা জড়িত, তারা বেশ তৎপর এবং সক্ষমতার মধ্যে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। ফলে খুব বেশি এবার আশঙ্কা আমি দেখছি না। আমি মনে করছি, স্বস্তির মাধ্যমে মানুষের ঈদযাত্রাটা নিশ্চিত হবে।’
‘মিটার গেজে আমরা প্রায় ১২৪টি কোচ যুক্ত করেছি, আরও ১৪টির মতো যুক্ত করেছি ব্রড গেজে। স্পেশাল ট্রেন আরও প্রায় পাঁচ জোড়ার মতো আমরা যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের যে সক্ষমতা আছে, ২৬ থেকে ৪২ হাজার মানুষকে আমরা এই সেবাটা দিতে পারবো, যাত্রাটা নিশ্চিত করতে পারবো। শেষ মুহূর্তে কিছু চাপ হয়। অনেকে যেকোনো মূল্যে ছাদে উঠে যেতে চান। আমরা নিবৃত করার চেষ্টা করছি, ওঠার সব ব্যবস্থা বন্ধ করছি। তারপরও এমন হয়ে যায় শেষ মুহূর্তে যে, অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সে যেকোনো মূল্যে বাসায় পৌঁছাতে চায়,’ যোগ করেন তিনি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সব নিচ্ছি, কিন্তু আমি এই মুহূর্তে হয়তো এই কথা বলতে পারছি না যে, একজন লোকও কোনো অবস্থাতে ছাদে যেতে দেওয়া হবে না।’
রবিউল বলেন, ‘আমার জানামতে সোয়া কোটি থেকে দেড় কোটি মানুষ মাত্র দুই থেকে তিন দিনে ঢাকা শহর থেকে বাইরে যাবে। পৃথিবীর কোনো শহরে এই অল্প সময়ের মধ্যে এত লোকের বাইরে যাওয়ার দৃষ্টান্ত নেই। সে রকম একটা পরিস্থিতি আমাদের মোকাবিলা করতে হয়। ব্যবস্থাপনা যতটুকু আছে, তার খুব ঘাটতি নেই, কিন্তু ট্রেনের কোচ-বাস-লঞ্চ প্রয়োজন। যেসব পরিবহন ইতোমধ্যে এখানে চলছে, সেটা অনেক পুরোনো। আরও নতুন কোচ দরকার। সে জায়গায় আমরা আরও কোচ যুক্ত করা, বাস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলাসহ একটা মানসম্মত বাস সার্ভিস নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার কাজ করছে।’
‘২০ দিনের একটা সরকার, দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলো ধাপে ধাপে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপনারা দেখবেন,’ বলেন তিনি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট সড়কে ছয় লেনের কাজ চলছে। অন্তত দুটি লেনে অবাধে গাড়ি যেতে পারবে। গাড়ির গতি কম হবে, কিন্তু গাড়ি কোথাও থামবে না সে ব্যবস্থাপনা আমরা নিশ্চিত করেছি।’
‘সড়ক যোগাযোগের ওখানে আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি আবারও বলতে চাই, যা সক্ষমতা আছে, যা জনবল আছে, যা করা সম্ভব তার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।