পটুয়াখালীতে ডিজেল সংকটে আটকা কয়েকশ ট্রলার
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর-মহিপুর দেশের অন্যতম বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন অসংখ্য জেলে এ বন্দরে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তবে গত তিন-চার দিন ধরে এলাকায় তীব্র ডিজেল সংকটের কারণে কয়েকশ মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রে যেতে পারছে না। ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে তাই বিপাকে পড়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজেলের অভাবে ট্রলারগুলো বিভিন্ন খাল ও ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে। এতে একদিকে জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে ট্রলার মালিকদেরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মহিপুরের ইভা খানম ট্রলারের মালিক ইব্রাহিম কোম্পানি বলেন, ‘গত তিন-চার দিন ধরে কোনো মহাজনের কাছেই ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাছ বিক্রি করে ট্রলারগুলো ঘাটে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আমার দুটি ট্রলারে প্রায় ৩০ জন স্টাফ রয়েছে। তাদের খাবার বাবদ প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় রয়েছি।’
জননী ট্রলার কোম্পানির পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের ৭টি ট্রলারের মধ্যে ৪টি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ৩টি সমুদ্রে রয়েছে। সেগুলো ফিরে এসে তেল না পেলে আর সমুদ্রে যেতে পারবে না। ঈদের আগে মাছ ধরে ভালো আয়ের আশা ছিল, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই আশা আর পূরণ হবে না।’
আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ভাই ভাই আড়তের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা মৎস্য ব্যবসায়ী হিসেবে অসহায় অবস্থায় আছি। অনেক ডিজেল ব্যবসায়ীর কাছে তেল মজুত থাকলেও তারা আমাদের কাছে বিক্রি করছে না। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঠিক তদারকি প্রয়োজন।’
মহিপুর আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস জানান, ‘এলাকার পাম্প বা দোকানগুলোতে গেলে বলা হচ্ছে ট্রলারে তেল দেওয়া নিষেধ। আবার কোথাও কোথাও বেশি দাম দিলে ডিজেল পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো জ্বালানি সংকটে পড়ে ঘাটে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যানুযায়ী, আলীপুর-মহিপুর এলাকায় স্থানীয় মালিকানাধীন ট্রলারের সংখ্যা ১৫০টির বেশি। এছাড়া চট্টগ্রাম, বাঁশখালী, ভোলা, বরগুনা ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আরও প্রায় শতাধিক ট্রলার এ বন্দর থেকে জ্বালানি সংগ্রহ ও মাছ বিক্রি করে। একটি ট্রলার সমুদ্রে যাওয়ার সময় ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী সাধারণত এক থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল নিয়ে থাকে।
এ বিষয়ে মহিপুরের রাজা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে ডিপো থেকে কোটাভিত্তিক তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে পরিবহন ছাড়া অন্য খাতে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আলীপুর-মহিপুর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সব মিলিয়ে দৈনিক মাত্র পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ হচ্ছে। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া যাচ্ছে না।’
যোগাযোগ করা হলে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে জেলায় ইতোমধ্যে সভা হয়েছে। দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। কেউ যদি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’