শের-ই-বাংলা মেডিকেলে অপারেশনের আগে ইনজেকশন দেওয়ার পর ২ রোগীর মৃত্যু
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশনের আগে ইনজেকশন দেওয়ার পর দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় ২ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত ও ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আজ রোববার সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলার নাক-কান-গলা বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
মৃত রোগীরা হলেন- বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার সারসী গ্রামের হেলেনা বেগম (৪৫) ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া ইউনিয়নের শেফালি বেগম (৬০)।
হাসপাতাল সূত্র ও মৃতদের স্বজনরা জানান, থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে নাক-কান-গলা ওয়ার্ডে রোজার প্রথম সপ্তাহে ভর্তি হন হেলেনা বেগম। শেফালি বেগম মুখে টিউমার নিয়ে ভর্তি হন ১৮ রোজার দিনে।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই দুই রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপরেই দুজন মারা যান।
মৃত হেলেনার স্বজন মনির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকালে অপারেশনের আগে ইনজেকশন পুশ করা হয় আমার খালাকে। এরপরেই তিনি মারা যান। আমরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেব।'
শেফালি বেগমের মেয়ে খাদিজা বেগম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকালে নার্স এসে ইনজেকশন দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন মা। বিষয়টি নার্সদের জানানো হলেও তারা ভ্রূক্ষেপ করেননি। চোখের সামনে আমার সুস্থ মা মারা গেলেন।'
উভয়ের স্বজনরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর হাসপাতাল পরিচালক ওয়ার্ডে যান।
ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকা মলিনা হালদার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে যে ইনজেকশন দেওয়ার কথা তাই দিয়েছি। রোগীদের অবস্থা খারাপ হলে চিকিৎসককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানাই। তিনি সেসময় যে ইনজেকশন দিতে বলেন সেটাও দিয়েছি।'
এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং তত্ত্বাবধায়ক খাদিজা বেগম জানান, 'একই ওয়ার্ডে দুই রোগীর মৃত্যু অবশ্যই দায়িত্বে অবহেলা।'
জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দুই রোগীর অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। এক্ষেত্রে কিছু ওষুধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে দিতে হয় এবং কিছু ওষুধ অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর দিতে হয়। অ্যানেসথেটিক ড্রাগ দেওয়ার পরে রোগীর এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যার ফলে মেশিনের ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ওই ওষুধ সেবিকারা অপারেশন থিয়েটারে না নিয়ে আগে ওয়ার্ডে বসে দিয়েছেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে রোগীরা মারা যান। এটি অবশ্যই পেশাদারত্বের জায়গা থেকে "মেডিকেল নেগলিজেন্স" এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।'
তিনি বলেন, 'দায়িত্বে অবহেলা, খামখেয়ালিপনা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। রোগীর স্বজনরা চাইলে মামলা করতে পারেন।'
এ ঘটনায় দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।