ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুট: ডুবোচরে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের শঙ্কা
আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটে ‘রোটেশন প্রথা’ তুলে নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে এই রুটে নিয়মিত লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ঈদ ঘিরে বিশেষ সার্ভিসের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
তবে যাতায়াত সহজ করার এই উদ্যোগের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌপথের সাতটি স্থানের ভয়াবহ ডুবোচর। এসব ডুবোচরের কারণে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের পূবালী-১২ লঞ্চের সারেং সুমন হীরা জানান, এই রুটের পটুয়াখালী লঞ্চঘাট সংলগ্ন লোহালিয়া নদীর মোহনা, বগা, লক্ষিপাশা, সোনাকান্দা, কোবাই, বিশাইন কান্দি এবং মেঘনার প্রবেশমুখ গঙ্গার চর এলাকায় পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কম।
তিনি বলেন, ভাটার সময় এসব ডুবোচরে প্রায়ই লঞ্চ আটকে যায়। তখন জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় অপচয় হয়। এসব ডুবোচর অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি হবে। ঈদে লঞ্চের সংখ্যা বাড়লে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে।
এই রুটের দোতলা যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি প্রিন্স কামাল-১-এর চালক মো. নাসির উদ্দিন খাঁন বলেন, বর্তমানে জোয়ার-ভাটার হিসাব করেই লঞ্চ চালাতে হচ্ছে। ভাটার সময় রওনা দিলে মাঝপথে চরে আটকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হন, আর চালক-শ্রমিকদেরও নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে পটুয়াখালী এসেছেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে সপরিবারে ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি এসেছি। মাঝরাতে কোবাই এলাকায় লঞ্চ ডুবোচরে দুই ঘণ্টা আটকে ছিল। এতে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, পটুয়াখালী লঞ্চঘাটটি কার্যত নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। লঞ্চ ছাড়ার সময় ঘাটের মোড় অতিক্রম করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়, কারণ ঘোরার সময় তলদেশ চরে লেগে যায়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ঘাট কেবল অতীতের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
অতিরিক্ত লঞ্চের বার্থিং নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের সামনের চর অপসারণে জরুরি ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. জাকী শাহরিয়ার বলেন, তিনটি পন্টুন এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আমরা বার্থিং সক্ষমতা বাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, পটুয়াখালী অংশে যেসব ডুবোচর রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করার কাজ চলছে। আর বরিশাল অংশে যেগুলো পড়েছে, সেগুলো তাদের জানানো হয়েছে।
এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, পটুয়াখালী নদী বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া টার্মিনাল এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার বা যাত্রী হয়রানি রোধে সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।