ছুটি নেই, ঈদেও ইউনিফর্মে তারা
সারাদেশের মানুষ যখন পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছে, তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শত শত সদস্য নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে আর কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত।
এছাড়া জননিরাপত্তা রক্ষায় থানাসহ পুলিশের সব ইউনিট সচল রাখতে সদস্যদের একটি বড় অংশের ছুটি মেলেনি।
তাদের জন্য ঈদ মানে কোনো পারিবারিক মিলনমেলা নয়, বরং বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেই ঈদের সামাজিকতা রক্ষা।
গুলিস্থান স্টেডিয়ামের কাছে ভিআইপি প্রটোকলে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'উৎসবের দিনে দায়িত্ব পালন করা এখন রুটিনে পরিণত হয়েছে। অল্প কিছু সদস্যকে ছুটি দেওয়া সম্ভব হলেও বড় একটি অংশকে জননিরাপত্তায় ডিউটিতেই থাকতে হয়।'
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চেয়ে কনস্টেবলদের গল্প আরও বেশি আবেগপ্রবণ। কারও এটি পরিবার ছাড়া প্রথম ঈদ, কেউ আবার অসুস্থ শরীর নিয়েও পালন করছেন ডাবল শিফট।
রাঙ্গামাটির বাসিন্দা কনস্টেবল জমির উদ্দিন এক বছর আগে পুলিশে যোগ দিয়েছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে তিনি।
মিরপুর শাহ আলী মাজার গেটে দায়িত্বরত জমির বলেন, 'সকালে মা, বাবা আর দুই বোন ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে, ঠিকমতো খেয়েছি কি না জানতে চেয়েছে। মা-বাবার থেকে দূরে ঈদে খারাপ লাগে ঠিকই, কিন্তু দায়িত্ব পালনের মধ্যেও একটা সার্থকতা আছে।'
এএসআই রঞ্জিত চন্দ্র রায় গতকাল রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এক শিফট ডিউটি শেষ করে ব্যারাকে ফিরেছিলেন। কিন্তু জনবল কম থাকায় দুপুর ২টায় আবার যোগ দিয়েছেন কাজে।
মিরপুর শাহ আলী মাজারের কন্ট্রোল রুমে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকবেন তিনি। ডেইলি স্টারকে রঞ্জিত বলেন, 'অনেকে ছুটিতে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।'
অসুস্থ কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে দেখা হয় মিরপুর ১০ নম্বরে। তিনি জানান, তার হার্টে তিনটি রিং। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে তার শ্বাসকষ্ট হয়।
মামুন বলেন, 'দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে যাচ্ছি। দিনাজপুরে থাকে পরিবার। স্ত্রী ও তিন মেয়ে বারবার ফোন করে ওষুধ খেয়েছি কি না, খোঁজ নিচ্ছে। যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, চেষ্টা করি সততার সঙ্গে কাজ করতে।'
দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বাসিন্দা ট্রাফিক কনস্টেবল মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ৩৭ বছর ধরে পুলিশে। অবসরে যাবেন তিন বছর পর। আজ ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বলেন, 'ছুটি পেলে গ্রামে পরিবারের কাছে যেতাম। কিন্তু আমাদের ঈদ কাটে এই সিগন্যাল আর চেকপয়েন্টেই।'
মিরপুর বিভাগের ট্রাফিক কনস্টেবল শফিকুল ইসলামও গত ঈদের মতো এবারও রাজপথে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, গত ঈদেও তাকে থাকতে হয়েছিল। গতকাল গাবতলী এলাকায় দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তার ডিউটি ছিল।
শফিকুল বলেন, 'সবাই চায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে, কিন্তু পেশাগত দায়িত্বের প্রয়োজনে সবসময় তা সম্ভব হয় না। জরুরি অবস্থা বা বাড়তি চাপের সময় অনেককেই উৎসবের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে কাজ করে যেতে হয়।'