ভৈরবে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে আহত ৩০, কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের বেশ কয়েকটি দোকানপাট।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে পাঁচটি ট্রেন। পরে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় মহানগর গোধূলী ও কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর গোধূলী ট্রেন নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ভৈরব স্টেশন ছেড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ভৈরবের জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটি গ্রামের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচের সময় দুই গ্রামের কয়েকজন তরুণের মধ্যে মারামারি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর এলাকার কয়েকজন তরুণ পঞ্চবটি এলাকায় গেলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২০ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রাত দেড়টার পর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যসহ যৌথ বাহিনীর চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে, ঢাকাগামী মহানগর গোধূলী ভৈরব রেলসেতু এলাকায়, পারাবত ও এগারসিন্দুর গোধূলী দৌলতকান্দি স্টেশনে এবং চট্টগ্রামগামী চট্টগ্রাম মেইল ও তূর্ণা নিশীথা অন্য স্টেশনে আটকা পড়ে। এ সময় দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
কামরুল ইসলাম নামে এগারসিন্দুর গোধূলীর এক ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ট্রেনের হাজারো যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেক বিদেশগামী যাত্রী ট্রেন বিলম্বের কারণে ফ্লাইট মিস করেন। এতে তাদের জীবনও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
ভৈরব রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ বলেন, রাত ৮টা থেকে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্টেশনে পাঁচটি ট্রেন আটকা পড়েছিল।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই গ্রামই স্টেশনের পাশে হওয়ায় সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে স্টেশন এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচলও বন্ধ ছিল। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, এই সংঘর্ষের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।