‘সেতু লাগব না, আগের মতো কাঁচা রাস্তা বানাইয়া দেন’
‘আমাগো সেতু লাগব না, আগের মতো একটা মাটির কাঁচা রাস্তা বানাইয়া দেন। এই সেতু দিয়া উঠানামা করতে পারি না, ডাক্তার দেখাইতেও যাইতে পারি না। যারা এই সেতু বানাইছে, তাদের কাছে আমাদের কষ্টের কথাটা জানাইয়া দেন।’
কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজার সংলগ্ন ধাত্রী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাইটালবাড়ী গ্রামের শতায়ুর প্রায় চান বানু (৮৫)।
প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি শুধু সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
চান বানু আরও বলেন, ‘সেতুর সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়ক নাই। আমার নাতি নিচ থেইকা ধইরা আমারে সেতুর ওপরে তোলে। এভাবেই তিন বছর ধইরা কষ্ট করতাছি।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরমী বাজারের যানজট কমানো এবং মাওনা-গফরগাঁও আঞ্চলিক সড়কের বিকল্প পথ তৈরির লক্ষ্যে এই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৭ দশমিক ৩৪ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে শেষ হয় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় পার হলেও সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও অপর পাশে কোনো সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে বালু ফেলে এক ধরনের অস্থায়ী সিঁড়ি তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। সংযোগ সড়ক না থাকায় পাইটালবাড়ী ও বরকুলসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদা খাতুন (৪০) বলেন, ‘১৯ কোটি টাকা খরচ করে সেতু বানানো হইছে, কিন্তু আমরা কোনো সুবিধা পাইতেছি না। আমার মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষয় হয়ে গেছে, আমি উঠানামা করতে পারি না। আমার আশপাশের প্রায় ৫০০ পরিবার এই কষ্ট ভোগ করতেছি। আমাদের সমস্যার একটা সমাধান করেন।’
বরমী বাজারের কাঠ ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া (৬০) আক্ষেপ করে বলেন, ‘এত টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলো, কিন্তু মানুষ যদি ব্যবহারই করতে না পারে, তবে পুরো প্রকল্পের উদ্দেশ্যই তো ব্যর্থ।’
জানতে চাইলে সওজ গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আমরা ইতোমধ্যে ভূমি অফিসে জমা দিয়েছি। কিন্তু কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জমির মালিকরা এখনো ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে পারেননি। এই জটিলতা কেটে গেলেই সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া রোববার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আশা করছি, দ্রুতই এই জটিলতার সমাধান হবে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।