লালমনিরহাট

উদ্বোধনের দিনই সেতুতে ফাটল, এলজিইডির নির্দেশে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডেরহাট এলাকায় উদ্বোধনের দিনই সেতুর চারটি উইংয়ে (প্রোটেকশন পিলার) ফাটল দেখা দেওয়ার ঘটনায় সেটি ভেঙে সিডিউল অনুযায়ী নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ২০ জুন বিকেলে বোর্ডেরহাট এলাকায় সাড়ে ৭ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর যান ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ওই দিনই উইংয়ে ফাটল দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।

খবর পেয়ে এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে তদন্তে প্রাথমিকভাবে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ধরা পড়ায় চারটি উইং ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার সকাল থেকে পুরোনো অবকাঠামো অপসারণের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এলজিইডি সূত্র জানায়, হাতীবান্ধা উপজেলার দৈখাওয়া কলেজ থেকে ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বুড়ির বাজার পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও একই সড়কে সমান দৈর্ঘ্যের চারটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান ঠিকাদার গোলাম মাওলা।

চুক্তি অনুযায়ী গত জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে কেবল সেতুগুলোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনো সড়কের কার্পেটিং সম্পন্ন হয়নি।

বোর্ডেরহাট এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম আজ সোমবার ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সেতু নির্মাণে এমন নিম্নমানের কাজ হয়েছে যে উদ্বোধনের দিনই ফাটল দেখা দেয়। শুধু এই সেতু নয়, পুরো প্রকল্পেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।’

তার অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ও নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার আপত্তি জানালেও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি।

একই গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেতুর ফাটলের খবর প্রকাশের পরই এলজিইডি নড়েচড়ে বসেছে। সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হতো না।’

ফাটল দেখা দেওয়া সেতুটি। ছবি: স্টার

পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এ বাসিন্দা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের ঠিকাদার গোলাম মাওলা বলেন, ‘এ বিষয়ে যা বলার এলজিইডির প্রকৌশলী বলবেন। আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

যোগাযোগ করা হলে নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতীবান্ধা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আখতার হোসেন।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে ঈদের ছুটির সময় সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করেছেন। তখন আমাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি ঠিকাদার নিজ উদ্যোগে সেতুটি চালুও করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিকাদার নতুন করে উইং নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। পুরো বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছি।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম জানান, সেতুর মূল অবকাঠামো থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

‘পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয়, নিম্নমানের অথবা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে পুরো সেতু ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হবে,’ বলেন তিনি।

এছাড়া, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারকে সড়কের কার্পেটিং কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাইয়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কাওছার আলম আরও বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে এলজিইডির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’