টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হবিগঞ্জে বন্যার শঙ্কা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মৌলভীবাজার

টানা বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে দ্রুত বাড়ছে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে বাড়তে থাকলেও খোয়াই নদীর বাল্লা পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শহর রক্ষা বাঁধের পানিও বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় হবিগঞ্জ শহরসহ খোয়াই নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার বিকেল ৩টায় খোয়াই নদীর বাল্লা (চুনারুঘাট) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং পানি আরও বাড়ছে। একই সময় পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ১০৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ শহরের মাহমুদাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষার্থী রিফাত রহমান বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে আছি। আমাদের এলাকা খোয়াই নদীর একেবারে পাশে। বাঁধ ভেঙে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে আমাদের এলাকাই।’

শহরের মাছুলিয়া এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খোয়াই নদীর বাঁধ অনেক জায়গায় দুর্বল। দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ও তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই পানি আরও বাড়লে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়দুর রহমান বলেন, ‘খোয়াই নদীর বাল্লা (চুনারুঘাট) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ক্রমাগত বাড়ছে। এ ছাড়া, কালনী-কুশিয়ারা নদীর আজমিরীগঞ্জ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও প্রায় সব স্টেশনেই পানি বাড়ার প্রবণতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের ত্রিপুরা অংশে খোয়াই নদীর উজানে সাতটি জলকপাট খুলে দেওয়ার তথ্য পেয়েছে পাউবো। ফলে উজান থেকে বিপুল পরিমাণ পানি হবিগঞ্জের দিকে নেমে আসছে। অন্যদিকে হাওরাঞ্চলে পানি ধারণক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আসা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে খোয়াই নদীতে পানির চাপ আরও বেড়েছে এবং নদীর দুই তীরবর্তী জনপদ বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।’

খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বন্যার একটি প্রাকৃতিক কারণ হলেও মানুষের কর্মকাণ্ড এ ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত দখল ও বাঁধের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে নদীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘কেবল জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর নির্ভর না করে বাঁধগুলোতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা উচিত।’