বন্ধ কারখানা চালুর দাবিতে লতিফ বাওয়ানী-করিম জুটমিল শ্রমিকদের আন্দোলনের ডাক
রাজধানীর ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলসহ দেশের বন্ধ সব পাটকল আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালুর দাবি জানিয়েছেন চাকরি হারানো শ্রমিকরা। একইসঙ্গে বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবিও জানান তারা।
অবিলম্বে দাবি মানা না হলে সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন শ্রমিকরা।
আজ শুক্রবার বিকেলে ডেমরার মালা মার্কেটে ‘লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলস রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
লতিফ বাওয়ানী জুটমিলের শ্রমিক মো. ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে এবং ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবি নেতা শংকর আচার্য, তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা ও শ্রমিক নেতা বোরহান উদ্দিন ও সিরাজুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার লোকসানের অজুহাতে কারখানাগুলো বন্ধ করেছিল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি এবং বর্তমান বিএনপি সরকারও কারখানাগুলো বেসরকারি খাতে লিজ দিয়ে আগের সরকারের মতোই অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে।
বক্তারা আরও বলেন, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পরামর্শে দেশের ২৪টি পাটকল বন্ধ করা হয়। জুনে ২০টি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়।
সিপিবি নেতা শংকর আচার্য বলেন, '৩০০ কোটি টাকায় আদমজী আদমজী জুটমিলকে লাভজনক করা যেত। কিন্তু তা না করে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের জন্য। একইভাবে লতিফ বাওয়ানী, করিম জুটমিলসহ অন্যগুলোও বন্ধ করে আওয়ামী লীগ সরকার। ড. ইউনূসের সরকারও সেগুলো আর চালু করেনি, বিএনপি সরকারও করবে না। এজন্য আন্দোলনে নামতে হবে।'
স্থানীয় বাসিন্দা ও সিপিবি নেতা তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা বলেন, 'শ্রমিক শ্রেণির ইতিহাস সংগ্রামের। আমরা শ্রমিক ও স্থানীয়রা মিলে লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুটমিল চালুর দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।'
সমাবেশে চাকরি হারানো শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কারখানা বন্ধের পর কর্মকর্তারা ঠিকই বেতন পাচ্ছেন, অথচ শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ না করে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মিলগুলো চালু না করা পর্যন্ত সারাদেশের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।