সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, বন্যার শঙ্কায় বাসিন্দারা

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু
আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু

সিরাজগঞ্জে গত চার দিন ধরে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি এমন থাকলে বন্যার আশঙ্কার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সকালে কাজিপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫৮ মিটার, যা বিপৎসীমা থেকে ১ দশমিক ২২ মিটার নিচে।

একই সময়ে, সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ১২ দশমিক ০২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে যমুনা নদীর পানির উচ্চতা কাজিপুর পয়েন্টে ৮৭ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বর্ষণে পানির তীব্র চাপের কারণে গত ১৩ জুলাই থেকে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যমুনা নদীও দ্রুত ফুলে-ফেঁপে উঠছে।’

তিনি আরও জানান, সাত দিনের বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই, তবে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে যেতে পারে।

‘আগামী কয়েক সপ্তাহে যদি পানি এভাবে বাড়তেই থাকে, তবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই,’ বলেন পাউবোর এ প্রকৌশলী।

তবে ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। চরাঞ্চলের নদী তীরবর্তী ফসলি জমির এক বিশাল অংশ এরই মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।’

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে শুক্রবার তোলা যমুনা নদীর চিত্র। ছবি: স্টার

ফসলি জমি তলিয়ে গেলেও চরাঞ্চলের ঘরবাড়িতে এখনো পানি প্রবেশ করেনি বলে জানান মজিদ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পানি যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে দ্রুতই মানুষের বসতভিটা প্লাবিত হবে।’

একই চিত্র দেখা গেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নেও। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানকার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও নিচু গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কেননা বন্যা আশঙ্কার মধ্যেই নদী ভাঙনে অনেকে তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়েছেন।

এ উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘গত এক মাসে নদীভাঙনে শতাধিক মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছেন। আর এখন নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলের বেশির ভাগ অংশই পানির নিচে।’

যোগাযোগ করা হলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) মো. আব্দুল বাছেদ দাবি করেন, নদীর পানি বাড়লেও জেলায় এখনো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন যেকোনো ধরনের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’