প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
আজ সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
‘প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেকের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসন অব বিমসটেক হিসেবে দেওয়া হয়েছে’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছেন এবং সেই চিঠিটি আমাদের সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রণ একটা আছে সেখানে, সেটা আমরা দেখব কোনো এক সময়ে,’ যোগ করেন তিনি।
এ বিষয় নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, আমরা এখনো এ বিষয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেইনি।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়ে বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা তাদেরকে বলেছি এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবে।’
‘এছাড়া শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল সবই তাদেরকে দিয়েছি। এই বিষয়টা আলোচনায় এসেছে। আমাদের জন্য এটাও তো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এই হত্যাকারীদেরকে যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য বলেছি।’
দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ইতিবাচক পরিবেশ দরকার, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টির ব্যাপারেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সীমান্ত হত্যা কিংবা পুশ ইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো খুব সংক্ষেপে আমরা বলেছি। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার নয়, এগুলো নিয়ে আমি গতকালই তার সঙ্গে আলাপ করেছি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে—নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার জায়গা হচ্ছে জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের যোগ্য একটি আদালত তার বিচার করেছে, তাকে দণ্ড দিয়েছে।’
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘তার যদি কোনো বক্তব্য থাকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকে, সেটা আদালতে বলবে।’
‘হাসিনা যে কাজটি করেছেন, সেটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ—রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। এই কথাটাই আমি গতকালকেও বলেছি যে, আমরা চাই আমাদের রাষ্ট্রের পুরো কাঠামোর প্রতি বিশ্বের সব দেশ শ্রদ্ধাশীল হোক। আমরা আশা করব, আমাদের এই বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করবেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার ধারণা হচ্ছে, তারা জিনিসটা বুঝতে পেরেছেন। আশা করব যে, আমাদের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে হেয় প্রতিপন্ন করার মতো কিছু তারা আর করবেন না। এটা আমাদের প্রত্যাশা এবং আমি মনে করি...তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে, এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না,’ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।