এবার ১০ এয়ারবাস কিনতে আলোচনা করছে বিমান
মিশ্র বহর সম্প্রসারণ এবং দেশের বাজারের চাহিদা পূরণে নিজেদের অংশ বৃদ্ধিতে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে এবার ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত আজ মঙ্গলবার জানান, এয়ারবাস কেনার প্রস্তাবিত তালিকায় চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি জেট রয়েছে।
এসব উড়োজাহাজ কেনার পেছনে ‘কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি।’
গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি সম্পূরক চুক্তি সই করেছে বিমান। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।
গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার যে চুক্তি বিমান করেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ থাকায় নতুন ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি সই করা হয়।
রাশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজও ৩০ এপ্রিলের চুক্তিতে নির্ধারিত দামেই কেনা হবে।
সবমিলিয়ে মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বি৭৮৭-৯, ১৩টি বি৭৮৭-১০ এবং ১০টি বি৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। এগুলোর মধ্যে ১৫টি ওয়াইড-বডি ও ১০টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।
চুক্তি অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথমটি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে বাকি উড়োজাহাজ সরবরাহ করার কথা রয়েছে বোয়িংয়ের। তবে, সরকার ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে বলেছে বলে জানান মন্ত্রী।
রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানের নেটওয়ার্ক ও বহর পরিকল্পনার ভিত্তিতে ওয়াইড-বডি ও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য উড়োজাহাজের উড্ডয়নসীমা ও আসনসংখ্যা, প্রতিটি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রীর সংখ্যা এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজগুলো বেশি চাহিদা থাকা মধ্যপ্রাচ্যের রুটে এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো দূরপাল্লার রুটে পরিচালনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ন্যারো-বডি উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্পপাল্লার রুটে চলবে।
বহর অনেক বড় করার উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের মডেল অনুসরণ করছে। তারা একটি ছোট ঐতিহ্যবাহী এয়ারলাইনস থেকে ১৬৭টি উড়োজাহাজের এয়ারলাইনসে পরিণত হয়েছে। আর আমাদের বিমানের উড়োজাহাজ রয়েছে মাত্র ১৯টি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি ইথিওপিয়ার চেয়ে বেশি এবং দেশের বিমানবন্দরগুলোতেও যাত্রীর চাহিদা বেশি।
তার মতে, বর্তমানে বিমানের মাধ্যমে দেশের মোট যাত্রী চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশের কিছু বেশি পূরণ হচ্ছে। আর বাকি ৮০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো। তাই বিমানের বহরের ঘাটতি পূরণে উড়োজাহাজ কেনাকে সরকার সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে বিমান নিজস্ব আয় এবং উপযুক্ত অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে উড়োজাহাজগুলোর মূল্য পরিশোধ করবে। আর উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে বলে অর্থ পরিশোধও করা হবে পর্যায়ক্রমে।
বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে ক্রয় পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাই বাজেটের ওপর সরাসরি কোনো চাপ পড়বে না।’