সারের দাবিতে কৃষকের সড়ক অবরোধ, গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
পর্যাপ্ত সার সরবরাহের দাবিতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়া কুড়িগ্রামে ডিলার পয়েন্টের গুদাম ভেঙে সারের বস্তা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়া এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করেন কৃষকরা।
এছাড়া, সার বিতরণের স্লিপ দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের ব্রিজপাড় এলাকায় ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কও এক ঘণ্টা অবরোধ করা হয়।
পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে দুই জায়গাতেই অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষুব্ধরা।
ফকিরের তকেয়া গ্রামের কৃষক নুরুল হক (৬০) জানান, তারা বেশ কয়েকদিন ধরে সার পাচ্ছেন না। সারের দাবিতে স্থানীয় কৃষকরা রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে সেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের লোকজন এসে কৃষকদের শান্ত করেন। কৃষকরা যাতে চাহিদামতো সার পান, সে ব্যাপারটিও নিশ্চিত করা হয়।
একইসময় বড়বাড়ীহাট এলাকায় সার না পাওয়ায় কৃষকরা একজন ডিলারকে তার দোকানের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই ডিলারকে মুক্ত করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনোনীতা দাস জানান, সারের কোনো সংকট নেই। কিন্তু একটি গোষ্ঠী কৃষকদের উস্কানি দিয়ে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে।
ইউএনও বলেন, ‘কৃষকদের তাৎক্ষণিক বোঝানো হয়েছে। তারা যাতে চাহিদামতো সার পায় সে ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’
এদিকে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণের স্লিপ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সময় ডিলার পয়েন্টে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান হাবিব উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে ওসি আজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্রুত কৃষকদের মধ্যে সার সরবরাহের আশ্বাস দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে কৃষকরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
ডিলার পয়েন্টটি স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানান, তার দোকানে সার বিক্রি শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল সকাল সাড়ে ৯টা। তখন এক হাজারের বেশি কৃষক লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান।
সাইফুল বলেন, ‘আমি ইউএনও অফিসে বসে থাকা অবস্থায় খবর পাই আমার গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
বন্দবেড় গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান (৬০) জানান, তারা সারের জন্য ভোর থেকে অপেক্ষা করেছিলেন। সার না পেয়ে তারা ক্ষুদ্ধ হন। এর মধ্যেই একদল মানুষ উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। পরে তারা ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে সারের বস্তা নিয়ে গেছে।
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, ‘উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকরা ধৈর্য ধরে সার উত্তোলন করলে কোনো সমস্যা হবে না। আমি নিজে বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’