গোপালগঞ্জ-ঢাকা কমিউটার ট্রেন: এক মাসে ২১ হাজার যাত্রী, আয় ২৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা

শাহরিয়ার হোসেন

পদ্মা সেতুতে রেল চলাচল শুরুর প্রায় তিন বছর পর গত ১০ আগস্ট গোপালগঞ্জ-ঢাকা সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘অভিযাত্রী’ কমিউটার ট্রেন চালু হওয়ায় স্বল্প খরচে ও তুলনামূলক নিরাপদে ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ পেয়েছেন গোপালগঞ্জবাসী।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, চালুর প্রথম মাসে এ পথে ২১ হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এ সময়ে টিকিট বিক্রি থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২৬ লাখ ৭১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

গত ১০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা স্টেশনে ১০ হাজার ৯২৬টি এবং গোপালগঞ্জ স্টেশনে ৯ হাজার ৫৭১টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ঢাকা স্টেশন থেকে টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬১৫ টাকা এবং গোপালগঞ্জ স্টেশন থেকে ১৩ লাখ ২ হাজার ৯৭০ টাকা।

ঢাকা থেকে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ‘অভিযাত্রী’ কমিউটার ট্রেন।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটির সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থানের পর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ট্রেনটি চলাচল করে না। আটটি কোচ নিয়ে চালু হওয়া ট্রেনটিতে আসন রয়েছে ৬৩০টি। পথে সাতটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে ট্রেনটি।

তবে সময়সূচি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে অপেক্ষা ও পথে বিলম্বের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছায় বলে অভিযোগ। কখনো কখনো রাত ১২টা পর্যন্তও ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হয় বলে জানান যাত্রীরা।

অন্যদিকে, সড়কপথের তুলনায় কম খরচে ও নিরাপদে পরিবার নিয়ে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ট্রেনটি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তবে টিকিটে নির্ধারিত আসন নম্বর না থাকায় ভোগান্তির কথাও জানান তারা।

ছেলেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘অভিযাত্রী’ ট্রেনের টিকিট কাটেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা নয়ন কান্তি বালা।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, টিকিটে নির্ধারিত আসন নম্বর না থাকায় ট্রেনে উঠে পছন্দমতো আসন খুঁজে নিতে হয়। ফলে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বসার সুযোগ হয় না। শিশু, নারী ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

ট্রেনের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করে নির্ধারিত সময়ে চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি টিকিটে আসন নম্বর উল্লেখ এবং আসন বণ্টনে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান নয়ন।

গোপালগঞ্জের ঘোষেরচর ইসলামপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেত আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, টিকিটে নির্দিষ্ট আসন না থাকায় পরিবার নিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আগে থেকে ব্যাগ রেখে আসন দখল করেও স্ত্রী ও সন্তানদের পাশাপাশি বসাতে পারেনি। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের আলাদা হয়ে বসতে হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছাড়লেও বিভিন্ন স্থানে বিলম্বের কারণে অনেক সময় রাত ১২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছায়।

গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং ইনচার্জ মিঠুন বিশ্বাস ডেইলি স্টারকে বলেন, গোপালগঞ্জ স্টেশন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রতিদিন সব আসন পূর্ণ হয় না, গড়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ আসন পূর্ণ থাকে। ‘অভিযাত্রী’ কমিউটার ট্রেনের যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করা গেলে যাত্রীসংখ্যা ও আয় দুটিই আরও বাড়তে পারে।

গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রতন সেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অভিযাত্রী’ কমিউটার ট্রেনে এখন পর্যন্ত যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ করে টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। যাত্রীরা টিকিট কেটে পছন্দ অনুযায়ী আসনে বসেন। তবে অসুস্থ, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের নিজ উদ্যোগে আসন পেতে সহায়তা করি।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের আসন বণ্টন, টিকিটে আসন নম্বর উল্লেখ এবং সময়সূচি-সংক্রান্ত অসুবিধা সমাধানে শিগগির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।