এটিইউয়ের নাম পরিবর্তন করে হচ্ছে ‘এসআরইউ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’ (এসআরইউ) করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, নতুন কাঠামোর আওতায় দেশের বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় এসআরইউর শাখা থাকবে। শাখাগুলো সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে সার্বিক শৃঙ্খলা ও কেন্দ্রীয় কমান্ড থাকবে এসআরইউর প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) অধীনে।

আজ শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‌‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন কাঠামোর অধীনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এসআরইউ ডিএমপি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদবিরোধী কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত কমান্ড কাঠামোর আওতায় আনতে এই পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে এটিইউ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সারা দেশে উগ্রবাদবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার এখতিয়ার ছিল। এখন এসআরইউকে আরও সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। কার্যক্রমের প্রয়োজন অনুযায়ী মহানগর এলাকাগুলোতে এসআরইউর শাখা স্থাপন করা হবে এবং সেখানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা ও জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের ইউনিট গঠন করা হবে। এসআরইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।

মন্ত্রী বলেন, সিটিটিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে গঠন করা হয়নি এবং এটি ডিএমপির অধীনেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এখন পুরো ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।

‘এসআরইউর সদর দপ্তর আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি অবস্থান করে কেন্দ্রীয় কমান্ড ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন ইউনিটের অবকাঠামো, লজিস্টিকস ও প্রযুক্তিভিত্তিক সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে গড়ে তোলা হবে’, বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরির কার্যক্রম আপাতত আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বড় ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনাও আছে।

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় পর্যায়েও ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে এ ধরনের আটটি ল্যাবরেটরি চালু রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে একটি ফরেনসিক ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তদন্তের ক্ষমতা পাবে এপিবিএন

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হবে। বর্তমানে ক্যাম্পগুলোতে এপিবিএনের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং সেখানে প্রায় ৪০০ জন উপপরিদর্শক (এসআই) কর্মরত আছেন। তবে আগে তাদের তদন্তের ক্ষমতা ছিল না।

তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলোতে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধ এবং অপহরণসহ গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

দুটি থানার পক্ষে এসব মামলার তদন্ত করে এজাহার ও অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, এপিবিএনকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হলে এ সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা হবে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।