ঈদযাত্রায় অব্যবস্থাপনা, ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে পদক্ষেপ চায় জামায়াত
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ বাড়লেও পরিবহন খাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে চাঁদাবাজি ও যাত্রী ভোগান্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলেও দলটি দাবি করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে তিনি রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে এক তরুণের মৃত্যু এবং বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পরওয়ার বলেন, সদরঘাটের দুর্ঘটনায় নিহত মো. সোহেলের (২২) মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। একইসঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দুর্বল তদারকির প্রতিফলন। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, যা উদ্বেগজনক।
ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যাত্রীচাপ বাড়লেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়নি। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে চাঁদাবাজি এবং যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি এসব দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ঈদযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
এছাড়া ঈদযাত্রার বাকি সময় ও ঈদের পর ফেরার সময়কে সামনে রেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।