দেশে শান্তির জন্য নির্বাচনের অন্যায্য ফল মেনে নিয়েছিলাম: জামায়াত আমির

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, শুধু দেশে শান্তির জন্য আমরা নির্বাচনের অন্যায্য ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। আমরা সবকিছুই সহ্য করেছি এই দেশের স্বার্থে।

তিনি আরও বলেন, ওনারা (বিএনপি) তো দফায় দফায় জাতির কাছে ওয়াদা দিয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্য, ওনারা সংসদে গিয়ে সবকিছুই ভুলে গেছে। একটা একটা করে ওনারা সবকিছুতেই উল্টো রথে, উল্টো পথে চলছে।

শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবিতে আয়োজিত লংমার্চ শেষে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘হাসিনা যে পথে হেঁটে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন, আমরা স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান সরকারও সেই পথে হাঁটছে। একই পথে হাঁটলে পরিণতিও একই হবে।’

তিনি বলেন, ‘আট দফার একটিও আমাদের দলীয় দাবি নয়, এগুলো জনগণের দাবি। নির্বাচনের আগে এই সরকার বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না। কিন্তু তারা ইতোমধ্যে এমন একটি আইন পাস করেছে, যা কোরআনবিরোধী। এর জন্য এই সরকারকে মূল্য দিতে হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরের জনসভায় গণভোটকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। এটা ছিল তার অঙ্গীকার। কিন্তু তিনি তার অঙ্গীকার রক্ষা করেননি। তিনি গণভোটের রায় মানেননি, তিনি তা অগ্রাহ্য করেছেন।’

‘সংবিধানে যদি কোনো গণভোট না থাকে, তাহলে সংবিধান মেনে চব্বিশে কোনো গণবিপ্লব হয় নাই। সংবিধান মেনে ফ্যাসিস্টকে তাড়াতে পারিনি, সংবিধানের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা হয়েছে। যদি সংবিধানে কোনো গণভোট না থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনও হয়নি, কোনো সরকারও নেই। মানতে হলে সবটাই মানতে হবে, আর বাদ দিতে হলে সবটাই বাদ দিতে হবে’, বলেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারের ত্রাণমন্ত্রী দুলু নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এখন আর তার কণ্ঠে অতটা জোর দেখি না। জনগণকে বারবার ধোঁকা দেওয়া ঠিক হবে না।’