বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস আজ
আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। বর্ষা ছিল তার প্রিয় ঋতু। আর সেই বর্ষার দিনে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাসভবনে ইহলোক ত্যাগ করেন বাঙালি মনন ও সৃজনের এই মহান পুরুষ।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ (১৮৬১ সালের ৭ মে) কলকাতার সম্ভ্রান্ত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদাসুন্দরী দেবীর ১৫ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ১৪তম।
মাত্র আট বছর বয়সে লেখালেখিতে হাতেখড়ি হওয়া এই প্রতিভাধর কবি ১৮৭৪ সালে 'তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা'য় 'অভিলাষ' কবিতার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'কবিকাহিনী'।
দীর্ঘ জীবনে রবীন্দ্রনাথ ৫২টি কবিতার বই, ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৮টি নাটক, ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ এবং ২ হাজারের বেশি গান রচনা করেছেন।
১৯১০ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য ১৯১৩ সালে তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার ও সমাজকল্যাণেও রবীন্দ্রনাথ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা, ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নে 'শ্রীনিকেতন' এবং ১৯২৩ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন। প্রজাহিতৈষী জমিদার হিসেবে কৃষক ও পল্লি উন্নয়নে কৃষিঋণ ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তিনি। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া 'নাইটহুড' খেতাব ত্যাগ করে তিনি দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
বিশ্বভ্রমণে অনন্য রবীন্দ্রনাথ ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন। তার রচিত 'আমার সোনার বাংলা' বাংলাদেশের এবং 'জনগণমন' ভারতের জাতীয় সংগীত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তার গান বাঙালিকে যুগিয়েছে অপরিসীম সাহস ও প্রেরণা।