সেরাটা দিতে না পারলে এমন প্রশ্ন আসবেই: মাশরাফি

By একুশ তাপাদার, ব্রিস্টল থেকে

এক লঙ্কান সাংবাদিক বাংলাদেশ অধিনায়ককে প্রশ্ন করে বসলেন, ‘নিজের বোলিং কোটা তো পূরণ করছেন না, ম্যাচে আসলে আপনার ভূমিকা কি।’ দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অসংখ্য ম্যাচে দলকে সাফল্য এনে এখন এমন তেতো প্রশ্ন শুনতে কেমন লাগে? মাশরাফি বিন মর্তুজা অবশ্য স্বাভাবিক হিসেবেই নিচ্ছেন সব। বরং সেরাটা দিতে না পারায় এমন প্রশ্নের জন্যই নাকি প্রস্তুত তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৬ ওভার বল করে ৪৯ রান দিয়ে আর আক্রমণে আসেননি মাশরাফি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ওভারে ৩২ রান দেওয়ার পর নিজেকে আনেননি আক্রমণে। কেবল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বোলিং কোটা পূরণ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সেদিন শুরু থেকেই বেশ ভালো বল করছিলেন তিনি। ম্যাচের পরিস্থিতিতে ৯ ওভারে ৫০ রান দিয়ে ১ উইকেট ছিল বেশ ভালোই। কিন্তু শেষ ওভারে ১৮ দিয়ে দিলে বোলিং ফিগার কিছুটা খরুচে হয়ে যায়।

কেন আগের দুই ম্যাচে বোলিং কোটা পূরণ করলেন না, তার ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ অধিনায়ক বোঝালেন সেসব ম্যাচের পরিস্থিতি, ‘গত চার-পাঁচ বছরে নিজের অধিনায়কত্বে বহুবারই আমি আমার বোলিং কোটা পূরণ করিনি। এটা নির্ভর করে মাঝের ওভারে কারা ভাল করছে তার উপর।  প্রথম দুই ম্যাচে মোসাদ্দেক (হোসেন) জুতসই বোলিং করেছে দলের জন্য। এটাই মূল ভাবনা থাকে। গতম্যাচে আমি আমার কাজ করেছি।’

গত ম্যাচে তিনি তার কাজটা করেছিলেন। কিন্তু তবু কথা উঠছে। যেহেতু সেরাটা দিতে পারছেন না তাই এসব কথায় কোন আপত্তি নেই মাশরাফির, হতাশও নন তিনি,  ‘হতাশ একেবারেই না। আপনি যখন পেশাদার জীবনে থাকবেন, যখন সেরাটা দিতে পারবেন না আপনাকে এই ধরণের প্রশ্ন করা হবে এটা খুবই স্বাভাবিক। এটা সহজ ব্যাপার এটা গ্রহণও করতে হবে।’

‘আমি জানি না কারা কি বলছে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে উইকেটের যে অবস্থা ছিল বেশিরভাগ ম্যাচেই ছয়-সাড়ে ছয় করে পেসাররা দিচ্ছে। আমাদের স্পিনাররা ভাল ভূমিকা নিয়েছে বলে তাদের বেশি বল করতে হচ্ছে। গত ম্যাচে দরকার ছিল। আমি তাই ১০ ওভার করেছি। হয়ত ৮/৯ ওভার পর্যন্ত আমার সবই ঠিক চলেছে।’

মানুষ সমালোচনা করছে, মাশরাফি নিজেও অবশ্য নিজের উপর সন্তুষ্ট না। মানুষের কথায় কান না দিয়ে বরং নিজে কি অনুভব করছেন তার ভরসা রাখতে চান, ‘খারাপ সময় ভালো সময়ের পার্থক্য একেকজন একেকভাবে এক্সপ্রেস করে। দিনশেষে আমার কাছ থেকে আমি নিজেও আরও বেশি প্রত্যাশা করি। সেটা না হলে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি। মানুষ কি বলল সেটা থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমি নিজে কি অনুভব করছি।’