রাজনৈতিক সংকট, ভারতে যাচ্ছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পর দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়ে গেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গেওয়ালি আগামী মাসে ভারতের নয়াদিল্লি সফরে যাবেন।

প্রদীপ কুমার গেওয়ালি নিজেই ভারত সফরের বিষয়টি নেপালের সংবাদ মাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

গেওয়ালি দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, ‘আমি জানুয়ারির কোনো এক সময় নয়াদিল্লিতে যাব। তবে, তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গেওয়ালির সফরের জন্য উভয় পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তারিখ বিবেচনা করা হচ্ছে, জানুয়ারি ১৩-১৪ অথবা জানুয়ারি ১৪-১৫।

নেপাল-ভারত যৌথ কমিশনের ষষ্ঠ বৈঠকে নেপাল প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন গেওয়ালি।

বৈঠকে যোগ দেওয়া ছাড়াও ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে অন্যান্য বিষয়েও বৈঠকের সম্ভাবনা আছে তার। তবে, এসব নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

কিন্তু, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যে গত ২০ ডিসেম্বর হঠাৎ করে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ভেঙে দেন প্রধানমন্ত্রী অলি। একইসঙ্গে ৩০ এপ্রিল এবং ১০ মে নির্বাচন ঘোষণা করেন।

অলির প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে এক ডজনেরও বেশি রিট পিটিশনের শুনানি চলছে।

যদি আদালত সংসদ ভেঙে ফেলার বিষয়টি বহাল রাখে, তাহলে দেশটি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু, অলি যদি সত্যিই নির্বাচনে আগ্রহী থাকে, তাহলে চলমান করোনা মহামারি এবং কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব কিনা তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

গত রোববার কাঠমান্ডুতে চীনের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল জানতে চেয়েছিল, হাউস পুনর্বহাল করা সম্ভব কিনা। যদি হাউস পুনরুদ্ধার সম্ভব না হয়, তাহলে ঘোষিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের উপমন্ত্রী গুও ইয়েঝুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি নেপালি নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে বুধবার কাঠমান্ডু ত্যাগ করে।

নেতাদের মতে, অলি এবং পুষ্প কামাল দহালের নেতৃত্বাধীন নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির দুই দল আবার একত্রিত হতে পারবে কিনা তাও জানতে পেয়েছিল চীনের প্রতিনিধি দল।

তাই গাওয়ালির ভারত সফর, কাঠমান্ডুর দ্রুত রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং নেপালের প্রতি নতুন করে চীনের আগ্রহের কারণে অনুষ্ঠিত হতে হচ্ছে বলে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়।

আরও পড়ুন: