'প্রতি সপ্তাহে গতি বাড়ছে মোস্তাফিজের, হচ্ছেন আরও ধারালো'

স্পোর্টস রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং ছিল চোখ জুড়ানো। দারুণ সব কাটারে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন তার আবির্ভাবের সময়কে। চোটের পর এমন মোস্তাফিজের দেখা মিলছিল না। বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসল বলছেন কঠোর পরিশ্রমের ফল পাচ্ছেন কাটার মাস্টার।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে ২৯ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। ৬০ বলের মধ্যেই ৪১ বলই করেছেন ডট। উইকেট নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছেন বারবার। তার কব্জির ঝাঁকুনিতে খাবি খেয়েছেন টেইলররা। হ্যালসল দারুণ সব কাটার প্রতি সপ্তাহেই আরও ক্ষুরধার হচ্ছে, ‘ওর কাটার সবসময়ই দারুণ ছিল। গতি প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে এখন। কাটারগুলো তাতে আরও বেশি কার্যকর হচ্ছে।’

Richard Halsall
ফাইল ছবি: ফিরোজ আহমেদ
চোটের পর গতি বেশ কমে গিয়েছিল মোস্তাফিজের। উইকেটের অনেক কাছ থেকে বল করতেন বলে কাটার হতো ভয়ংকর। চোটের পর বোলিংয়ের সময় উইকেট থেকে অনেকটা সরে গিয়ে বল করছিলেন। কোচ সারওয়ার ইমরানের মতে তাতেই তিনি পাচ্ছিলেন না ছন্দ। ধীরে ধীরে ওসব সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন মোস্তাফিজ। এখন পাচ্ছেন গতি, ফিরছে আগের ধার। হ্যালসল বেসবলের উদাহরণ টেনে ব্যাখ্যা করলেন পুরোটা, ‘বেসবল খেলার দিকে যদি তাকান, তাদের অনেক পিচার (বল ছোড়েন যে খেলোয়াড়) এরকম চোটে ভোগে। ওরা সাধারণত ৯০ মাইল গতিতে বল ছোড়ে। এ ধরনের চোট পেলে সেটি কাটিয়ে আবার ৯০ মাইল গতিতে ফিরতে ওদের ২ বছরও লেগে যায়। মুস্তাফিজের দেড় বছরের মত হয়েছে চোটের পর। ওর গতি আস্তে আস্তে বেড়ে ৮৫ মাইল পর্যন্ত চলে এসেছে।’

দিনে দিনে এই উন্নতির পেছনে মোস্তাফিজের নিবিড় অনুশীলন আর একাগ্র নিবেদনকে বাহবা দিলেন সহকারী কোচ, ‘ওর আত্মবিশ্বাস ফিরে আসছে। সবচেয়ে দারুণ হলো এটা দেখতে পারা যে কতটা কঠোর পরিশ্রম করছে সে। নিজের স্কিল নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। নিজের স্কিলের প্রতি ওর যা আবেগ ও ভালোবাসা, সবাই সেটি দেখছে।’

বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে সবচেয়ে পরিশ্রমী হিসেবে খ্যাতি আছে মুশফিকুর রহিমের। নিজেকে প্রস্তুত রাখতে প্রচুর খাটেন তামিম ইকবালও। পর্যাপ্ত অনুশীলন করেন না বলে বদনাম ছিল পেসারদের। সম্প্রতি পরিশ্রমে মুশফিক, তামিমের মতো খাটছেন মোস্তাফিজ। তাতে ভীষণ মুগ্ধ হ্যালসল, ‘আমরা তামিম ও মুশফিককে দেখতাম নেটে কতটা খাটে। কিন্তু একজন বোলার প্রতিটি ট্রেনিং সেশনে এভাবে পরিশ্রম করছে, সেটি দেখতে পারাটাও দারুণ।’