মাহফুজ আনামের কলাম

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: বিএনপি ও বিরোধী দলের বাড়তে থাকা দূরত্ব উদ্বেগও বাড়াচ্ছে

মাহফুজ আনাম
মাহফুজ আনাম

স্বাধীনতার পর আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম সংসদীয় শাসনব্যবস্থা দিয়ে। কিন্তু পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু নিজেই একদলীয় ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শ থেকে সরে আসেন।

জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর সৌভাগ্যক্রমে বাকশালের প্রায় সব কাঠামোই বিলুপ্ত করেন, কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা ছাড়া। পরবর্তীতে তৎকালীন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনেন। এই ঘটনাটিকে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ বলা যেতে পারে। কারণ, মূলত তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগই এই দাবি জানিয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু এবং তার পক্ষ থেকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পুরো জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য উদ্দীপ্ত করা জেনারেল জিয়াউর রহমান—দুজনকেই হত্যা করে সশস্ত্র বাহিনীরই কিছু সদস্য। পরিহাসের বিষয় হলো, হত্যাকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী গোষ্ঠীই প্রবাসী সরকারের চার জাতীয় নেতা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে হত্যা করে। বিভিন্নভাবে আমরা আরও হারিয়েছি মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, মেজর জেনারেল মঞ্জুর, কর্নেল তাহেরসহ আরও অনেককে, যারা হয়তো ততটা পরিচিত বা উচ্চপদস্থ ছিলেন না।

এমন মর্মান্তিক ও আত্মঘাতী অভিজ্ঞতাগুলো থেকেও আমরা কিছুই শিখিনি, উল্টো নিজেদের মধ্যে লড়াই চালিয়ে গেছি। আমরা বুঝতেই পারিনি যে, এমন প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং লাখো সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ তরুণদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না, সেই শক্তিগুলো ইতিহাস বিকৃত করার সুযোগও পাচ্ছে।

দীর্ঘ গণআন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে এরশাদের সরকারের পতন হয় এবং দেশে গণতন্ত্র, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচিত সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। (কাকতালীয়ভাবে, ঠিক সেই সময়েই ১৯৯১ সালের ১৪ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারের জন্ম হয়।)

আমরা সবাই ভেবেছিলাম, অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক লক্ষ্য ‘গণতন্ত্রে’ আমরা ফিরেছি। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে নিয়মতান্ত্রিক জাতীয় নির্বাচন পেয়েছি। কিন্তু ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে হয় কারচুপির নির্বাচন, যার পরিণতিতে পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা আমাদের কিছু স্থায়ী শক্তি দিয়েছে। আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে না পারলেও এই ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রয়েছে। এই সময়কালে অর্থনীতি এগিয়েছে, বেসরকারি খাত সম্প্রসারিত হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের আভাস পেয়েছে। এই সময়কালের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা হলো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। গণতান্ত্রিক এই সময়কালে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশ প্রমাণ করতে পেরেছে যে, এর মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আমরা আবারও নির্বাচিত সরকার, নির্বাচিত সংসদ, সক্রিয় বিরোধী দল, নতুন নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এবং মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরে এসেছি।

আজ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এই স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সুশাসন। এমন এক অবস্থার মধ্যেই সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে তারা সরকার পতনের লক্ষ্যে রাজপথে নামবেন। আমরা এ ধরনের হুমকিকে উদ্বেগজনক মনে করি। এ ধরনের অবস্থান গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং সার্বিকভাবে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

জামায়াতের এমন বক্তব্যের সমালোচনার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপি যা করছে, সেটিও পর্যালোচনা করা উচিত। কেননা, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘জনগণের ইচ্ছা’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজের নেতৃত্বে দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তার মধ্যে বেশকিছু দল সুপরিচিত নয়। কিন্তু, তারপরও এটি ছিল এক ইতিবাচক উদ্যোগ। কেননা, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট সঙ্গী এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে সংলাপের টেবিলে আনা হয়েছিল।

কয়েক মাসের আলোচনার পর ‘জুলাই সনদ’ প্রণীত হয় এবং ২৬টি রাজনৈতিক দল এতে সই করে। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন। এই আদেশ সনদ বাস্তবায়ন এবং যেসব সংস্কার প্রস্তাবের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে গণভোট আয়োজনের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে দেয়।

কমিশনের কাজ শেষ হওয়ার পর মোট ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়, যার মধ্যে ৪৮টির জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। বাকি বিষয়গুলো নির্বাহী আদেশ ও আইন সংশোধনের মাধ্যমেই কার্যকর করা সম্ভব। সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন এমন ৪৮টি বিষয়ের মধ্যে মাত্র ৯টিতে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে।

সবমিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সফল বলা যায়। কারণ, যেখানে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বিভাজন, সেখানে এমন ঐকমত্য নিঃসন্দেহে এক বড় সাফল্য।

সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিনই একটি গণভোটের আয়োজন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার এমন একটি গণভোট দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করে, যার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভোটারদের পরিপূর্ণ বোঝাপড়া ছিল না। সাধারণত গণভোট হয় সুনির্দিষ্ট ও সহজবোধ্য কোনো বিষয়ে এবং সেখানে ভোটার ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে পারেন। কিন্তু এই গণভোটে চারটি পৃথক প্রশ্নের মাধ্যমে ঐকমত্য কমিশনে আলোচিত ৪৮টি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অসংখ্য সাংবিধানিক সংশোধনীকে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা এবং সেগুলোর অর্থ ও প্রভাব সম্পর্কে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত না করা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। অধিকাংশ ভোটারই জানতেনই না, তারা আসলে কী বিষয়ে ভোট দিচ্ছেন।

গণভোটে আরও প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, নির্বাচিত সংসদ শুধু আইনসভা হিসেবেই নয়, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবেও কাজ করবে। আর এখানে এসেই ঐক্য ভেঙে যায়। বিএনপি এই প্রস্তাব কখনোই মেনে নেয়নি। তাদের প্রস্তাব ছিল, সংশোধনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক সংস্কারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তাদের এই প্রস্তাব অনেক বেশি আনুষ্ঠানিক ও বহুল প্রচলিত। এমনকি এই পদ্ধতি বিশ্বজুড়েও প্রচলিত।

কিন্তু, সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির অবস্থান গুরুতর কিছু প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। যেসব বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নেও বিএনপির গড়িমসি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তাদের ব্যাখ্যা হলো, সংবিধান সংশোধনের আগে এসব বিষয় আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই যুক্তির কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও জুলাই সংস্কার প্রক্রিয়াটি যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটা সম্ভবত সর্বোত্তম উপায় নয়।

আমাদের সংবিধানে নির্বাহী, বিচার ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ ভারসাম্য প্রত্যাশিত ছিল। এর উদ্দেশ্য হলো, সব ক্ষমতা যেন নির্বাহী বিভাগের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়ে যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সংবিধানে সেই ক্ষমতার ভারসাম্য ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এমন এক শাসনব্যবস্থার জন্ম হয়, যাকে কিছু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ‘নির্বাচিত একনায়কতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। দুর্ভাগ্যবশত, দীর্ঘকাল ধরে আমরা সেটার মধ্য দিয়েই যাচ্ছি।

আমাদের প্রশ্ন করা উচিত, কেন আমাদের সংসদীয় শাসনব্যবস্থা একই ধরনের সরকারব্যবস্থা থাকা অন্যান্য দেশের মতো সফল হতে পারেনি? এর উত্তর নিহিত রয়েছে আমাদের নেতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। বরাবরই আমাদের শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। দলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে শীর্ষনেতার ভূমিকা সবসময় জবাবদিহি ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে গেছে। যখন এমন একটি দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তার শীর্ষনেতা প্রধানমন্ত্রী হন, তখন একজন ব্যক্তির হাতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীভূত সমস্ত ক্ষমতা সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়।

এর ফলে রাষ্ট্রের বহু প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের শিকার হয় এবং সেগুলো কার্যত দলেরই সম্প্রসারিত অংশে পরিণত হয়। যার উদাহরণ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর কথা বলা যায়। এই বাহিনীতে কখনোই প্রকৃত স্বাধীনতা ছিল না। বরং তারা সবসময় বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একই কথা আমলাতন্ত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সেখানে পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড দক্ষতা বা সততা নয়, বরং রাজনৈতিক আনুগত্য। রাষ্ট্রের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে দলেরই সম্প্রসারিত অংশে পরিণত করার মাধ্যমে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর অন্য কোনোভাবেই হয়নি।

আমাদের সংসদকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক। ১৯৯১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কখনোই বিরোধী দলকে সংসদে তাদের প্রাপ্য ভূমিকা পালন করতে দিইনি। অন্যদিকে বিরোধী দলও সবসময় মনে করেছে, ক্ষমতাসীন দলের যেকোনো নীতির বিরোধিতা করাই তাদের একমাত্র দায়িত্ব, এমনকি সেই নীতি দেশের জন্য উপকারী হলেও।

বর্তমানে, সাংবিধানিক পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ দুটি শব্দের মাঝে আটকে আছে—‘সংশোধন’ ও ‘সংস্কার’। বিএনপি সংবিধান ‘সংশোধনের’ বিষয়ে সংলাপের প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংবিধান ‘সংস্কার’ চাইছে। জামায়াতের এই অনমনীয়তার আসল কারণ হলো, তারা সংবিধান নতুন করে লিখতে চায়, যা সম্ভবত আমাদেরকে এক বিশৃঙ্খল ও সমাধানহীন সংকটের মধ্যে ফেলে দেবে। সংবিধান সংশোধন করা কি সংস্কারেরই আরেকটি রূপ নয়?

বিএনপি গত ২৯ এপ্রিল ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। সদস্যদের মধ্যে সাতজন বিএনপি ও পাঁচজন অন্যান্য দল থেকে এবং পাঁচজন বিরোধী দল থেকে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জামায়াত সময় চেয়েছিল। গত ১৬ জুন জামায়াত আমির এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, তারা এই কমিটিতে যোগ দেবেন না। পরবর্তীতে ১৩ জুলাই শাসক দল জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস করে।

আমরা মনে করি, জামায়াতের উচিত তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া। বাইরে থাকার চেয়ে কমিটিতে তাদের উপস্থিতি আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দেবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম যদি তাদের আশানুরূপ না হয়, তাহলে তারা বিরোধিতা করতে পারবে, এমনকি চাইলে সরেও দাঁড়াতে পারবে। তখন তারা জনগণকে সার্বিক বিষয় সম্পর্কে অবগতও করতে পারবে। কিন্তু, বিশেষ কমিটি কীভাবে কাজ করবে সেটা না দেখেই এই কমিটিতে যোগদান থেকে বিরত থাকাটা অন্যদের ওপর জামায়াতের নিজস্ব ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টামাত্র।

শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে এখন সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক অবলম্বনের সময় এসেছে। তা না হলে, আবারও জন্ম নিতে পারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা। আর তেমনটি হলে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে আমাদের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার