৭৩টি সংশোধনী আনল এমসিসি, উইকেট পড়লেও দিনের শেষ ওভার বাধ্যতামূলক
ক্রিকেটের আইনকানুনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। মঙ্গলবার এক ঘোষণায় সংস্থাটি ক্রিকেট আইনে মোট ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী প্রকাশ করেছে, যার লক্ষ্য খেলাটিকে আরও ন্যায্য, স্পষ্ট এবং আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এসেছে বহুদিনব্যাপী ম্যাচে (টেস্টসহ) দিনের শেষ ওভার সংক্রান্ত নিয়মে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দিনের শেষ ওভারে যদি উইকেট পড়ে, তাহলেও ওভারটি সম্পূর্ণ করতেই হবে। অর্থাৎ আর পরদিনের সকালে বাকি বল খেলানো যাবে না।
সংশোধিত আইন ১২.৫.২ অনুযায়ী, এখন থেকে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই নতুন ব্যাটারকে মাঠে নামতে হবে এবং ওভারের বাকি বলগুলো খেলতে হবে। আগে ব্যাটিং দল চাইলে বাকি বল পরদিনে নিতে পারত, যা এখন আর সম্ভব নয়।
এমসিসির ভাষায়, “দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে খেলা থেমে যাবে না। এটি বহুদিনের ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন আনবে। ফিল্ডিং দল যদি শেষ ওভারে উইকেট নেয়, অথচ নতুন ব্যাটারকে নামতে না হয়, এটি ন্যায্য নয়।”
এমসিসি আরও ব্যাখ্যা করে জানায়, এই নিয়ম সময় সাশ্রয় করে না, বরং ম্যাচের নাটকীয়তা কমিয়ে দেয় এবং নতুন ব্যাটারকে তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশে ব্যাট করার সুযোগ দেয়। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা আর থাকছে না।
আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে ব্যাট ব্যবহারে। এখন থেকে প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে এটি শুধু জুনিয়র ক্রিকেটে অনুমোদিত ছিল।
এই ব্যাট সর্বোচ্চ তিন টুকরো কাঠ দিয়ে তৈরি হয়, যা ব্যাটের খরচ কমায় এবং উন্নত মানের উইলো কাঠের চাহিদা সামলাতে সহায়ক হবে। এমসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ব্যাটের পারফরম্যান্সে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নেই। কোন স্তরে এই ব্যাট ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলো।
হিট উইকেট আইনেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিমার্জন। এখন থেকে কোনো ব্যাটার শট খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে স্টাম্পে আঘাত করলে, সেটিকে হিট উইকেট আউট হিসেবে গণ্য করা হবে, এমনকি বল অনেক দূরে চলে গেলেও।
তবে কোনো ফিল্ডারের ধাক্কায় ব্যাটার স্টাম্পে পড়লে এবং সেটি যদি অনিচ্ছাকৃত সংস্পর্শ না হয়, তাহলে আউট ধরা হবে না।
ওভারথ্রো সংক্রান্ত আইনেও স্পষ্টতা আনা হয়েছে। এখন থেকে স্টাম্প লক্ষ্য করে বল ছোড়াকে ওভারথ্রো এবং শুধু বল থামানোর চেষ্টা বা বাউন্ডারির দিকে বল ছোড়াকে মিসফিল্ড হিসেবে আখ্যা দেওয়া হবে। এই পার্থক্য পরিষ্কারভাবে আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বলকে এখন “ডেড” ঘোষণার জন্য আর বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বল যদি কোনো ফিল্ডারের হাতে থাকে বা মাঠে স্থির অবস্থায় থাকে, তাহলেও আম্পায়ার সেটিকে ডেড বল ঘোষণা করতে পারবেন। এতে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বাড়ছে।
এই নতুন আইনগুলো কার্যকর হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ক্রিকেট কমিটি। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বোর্ড চাইলে নিজেদের ঘরোয়া ক্রিকেটেও এই আইন প্রয়োগ করতে পারবে।
এটি ২০১৭ সালের কোড কার্যকর হওয়ার পর তৃতীয় বড় সংশোধন, এর আগে পরিবর্তন এসেছিল ২০১৯ ও ২০২২ সালে। এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, “ক্রিকেট দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি খেলা। আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই আইনগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে বিশ্বের সব স্তরের ক্রিকেটের জন্য নিয়মগুলো কার্যকর, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক থাকে।”