একটি পক্ষ সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই অপপ্রচারের ‘তাইরে নাইরে’ শুরু করেছে: জামায়াত আমির
দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়নের নতুন যাত্রা শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, বঞ্চিত মানুষের আর দাবি জানাতে হবে না, মিছিল করতে হবে না—উন্নয়ন করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করা হবে, যেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষ স্বাবলম্বী হবে।
আজ বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী—তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র। এই নদীগুলোকে হত্যা করে মরুভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট লুটপাট করে দেশকে নিঃস্ব করা হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে নদী শাসনের নামে লুটপাটের অর্থ পেট থেকে বের করে আনা হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেবল একটি দলের বিজয় চায় না, চায় দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। বিভক্তির রাজনীতি নয়, বরং ঐক্য ও সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়তে চায়। কোনো দলীয় রাষ্ট্র নয়, জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।
তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে তিনি পরিবর্তনের গণজোয়ার দেখতে পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানা বিভ্রান্তিকর ও অশালীন কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে। আর সেই সুযোগে একটি পক্ষ ঝাঁপিয়ে পড়ে, সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই অপপ্রচারের ‘তাইরে নাইরে’ শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পাতি স্বার্থান্বেষীরাই নয়, বরং কিছু তথাকথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিও এই অপপ্রচারে অংশ নিয়েছেন। তবে অপপ্রচারকারীরা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আমাদের শক্তিশালী সাইবার টিম দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করে তাদের অপতৎপরতা রুখে দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ। জামায়াতের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই—শহীদদের স্বপ্নই আমাদের পথনির্দেশনা।
নারী নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী নারীদের প্রতি অশালীন আচরণ ও হুমকি দিচ্ছে, যা লজ্জাজনক। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বন্ধ করা হবে এবং সব ধর্মের নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। যে দেশে মায়েদের নিরাপত্তা নেই, সে দেশ আমার হতে পারে না।
তরুণ ও যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। দেশ গড়ার চাবিকাঠি যুবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তারা ককপিটে বসবে, আমরা পেছন থেকে সমর্থন দেবো।
তিনি আরও বলেন, দমন-পীড়ন বা সংকট—কোনো অবস্থাতেই জামায়াতে ইসলামী জনগণকে ছেড়ে যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী প্রতিশোধমূলক রাজনীতিতে জড়ায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে আজাদি আর ‘না’-কে গোলামি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। আমরা আর গোলামি করতে চাই না, আজাদ হয়ে বাঁচতে চাই, আজাদি হয়ে বাঁচবো।
চাঁদাবাজ, বাটপার কিংবা মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। জনগণের বাংলাদেশ গড়াই আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার, যোগ করেন তিনি।