‘এই পরিস্থিতিতে কারোরই টেস্ট খেলোয়াড় হওয়া উচিত নয়’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক আবারও নিজেকে ‘শুধুমাত্র টেস্ট খেলোয়াড়’ হিসেবে তকমা দেওয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার বিশ্বাস, এই তকমা তাকে সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত করছে।

৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং টাইগারদের লাল বলের ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান ভরসা। তবুও, তিনি কেবল দীর্ঘ ফরম্যাটের জন্যই উপযুক্ত—এমন একটি ধারণা তৈরি হওয়ায় ঘরোয়া সাদা বলের টুর্নামেন্টগুলোতেও তাকে প্রায়ই সুযোগ হারাতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুমিনুল গত বেশ কয়েক বছর ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্রাত্য হয়ে আছেন। তার শেষ ওয়ানডে ম্যাচ ছিল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে, আর শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০১৪ সালে। এরপর থেকে জাতীয় দলের হয়ে তিনি কেবল লাল বলের ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও এই চিত্র বদলায়নি। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মুমিনুল সিলেট টাইটানস দলে থাকলেও একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি; পুরো টুর্নামেন্ট তাকে কাটাত হয়েছে সাইডবেঞ্চে। দেশের শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এই বাঁহাতি ব্যাটারের জন্য এটি এখন নিয়মিত ঘটনা। যদিও ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে সবগুলো ম্যাচেই খেলেছিলেন। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডে নর্থ জোনের বিপক্ষে ইস্ট জোনের হয়ে ৮২ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন মুমিনুল। ম্যাচ শেষে বগুড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিশেষ তকমা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, কোনো খেলোয়াড় ওয়ানডেতে সুযোগ পাবেন কি না সেটি পরের বিষয়; দল নির্বাচন হওয়া উচিত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। তবে অন্তত ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে [সাদা বলের ফরম্যাটে] তো খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া উচিত। কাউকে শুধুমাত্র লাল বলের ক্রিকেটের জন্য আটকে রাখা দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটের জন্যই একটি খারাপ উদাহরণ।’

মুমিনুল সতর্ক করে দেন যে, এমন পরিস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের টেস্ট বিশেষজ্ঞ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, ‘তরুণ খেলোয়াড়রা যখন দেখবে যে সাদমান [ইসলাম] বা মুমিনুলের মতো কেউ লাল বলের ক্রিকেট খেলেও সাদা বলের কোনো টুর্নামেন্ট বা বিপিএলে সুযোগ পাচ্ছে না, তখন তারা টেস্ট ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নই ছেড়ে দেবে। এর সঙ্গে আর্থিক সংগতির বিষয়ও জড়িত।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মুমিনুল বলেন, ‘যদি এমনটাই চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়রা মনে করবে যে টেস্ট খেলোয়াড় হয়ে কোনো লাভ নেই। আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি বলব—এই পরিস্থিতিতে কারোরই টেস্ট খেলোয়াড় হওয়া উচিত নয়। কারণ এতে আপনি সাদা বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগ হারাবেন, যা একটি বাজে নজির তৈরি করছে।’