শটের নাম জানি না, তবে নেটে অনুশীলন করি: শামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চলতি সিরিজে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে শামীম হোসেনের খেলা একটি ইমপ্রোভাইজড শট। উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে যে ছক্কাটি তিনি হাঁকিয়েছেন, তা রীতিমতো মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও আগ্রাসী মনোভাবের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই। সবার মাঝে কৌতূহল জাগানিয়া নতুন ধরনের এই শট নিয়ে মজার ব্যাপার হলো, শামীম নিজেই জানেন না এই শটটির নাম কী!

তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসেও শটটি নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় এই বাঁহাতি ব্যাটারকে। এমনকি এদিন নেটেও তিনি এই শটটির অনুশীলন করছিলেন। শটটি প্রসঙ্গে শামীম বলেন, 'আমি শটটির নাম জানি না। তবে নেটে আমি সবসময় এটি অনুশীলন করি। কারণ আমি জানি, যখন আমি ব্যাট করতে নামি, তখন এ ধরনের উদ্ভাবনী শট খেলতে পছন্দ করি। তাই এগুলো আমি বেশ ভালোভাবে অনুশীলন করি।'

নাথান স্মিথের করা বাউন্সারে খেলা শামীমের সেই শটটি ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি ডেলিভারির গতি দারুণভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। শটটি খেলার সময় তার মাথা ছিল স্থির, এক্সিকিউশন বা প্রয়োগ ছিল দুর্দান্ত এবং ফলো-থ্রু দেখে মনে হচ্ছিল যেন সোজা ব্যাটে খেলা কোনো শট। এই শট খেলার পেছনের ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ভাবনাটা হলো, আমি যখন ব্যাট করতে নামি, তখন ফিল্ডিং সাজানোটা একটু ভিন্ন থাকে। আর সেটাই আমার জন্য সুবিধা হিসেবে কাজ করে।'

শামীম জানান, তিনি সবসময় দ্রুত রান তোলার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামেন। নিজের ইনিংসের মাত্র তৃতীয় বলেই তিনি ওই অবিশ্বাস্য শটটি খেলেছিলেন। কখন আক্রমণ করার উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আসলে যখনই আমি ব্যাট করতে যাই, সবসময় একটা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে যাই যে, মারার মতো বল পেলে আমি মারব। আমি যদি একটু দ্রুতগতিতে খেলতে পারি, তবে তা আমার দলের জন্যই খুব ভালো।'

শুধু নিজের আত্মবিশ্বাসই নয়, অধিনায়ক লিটন দাসও যে তাকে খোলা মনে খেলার স্বাধীনতা দিয়েছেন, সেটিও উল্লেখ করেন তিনি, 'হ্যাঁ, একদমই তাই। লিটন ভাই আমাকে সবসময় স্বাধীনভাবে খেলতে বলেন।'

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শামীম এবং তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে ভর করেই ১৮০ পেরোনো লক্ষ্যমাত্রা ২ ওভার বাকি থাকতে এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে সহজেই তাড়া করেছিল বাংলাদেশ। মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি বাড়ানোর যে চেষ্টা বাংলাদেশ দল করে আসছে, সেটির দারুণ এক উদাহরণ ছিল ওই ম্যাচটি। শামীমও মনে করেন টি-টোয়েন্টি খেলার ধরন এমনই হওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'আমি বলব, টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো নিশ্চিতভাবেই এভাবে খেলা উচিত। নাহলে আমরা বড় ম্যাচগুলো জিততে পারব না।'

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শামীমের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর এড়ায়নি নিউজিল্যান্ড দলেরও। কিউই ক্রিকেটার ডিন ফক্সক্রফট জানিয়েছেন, শনিবারের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে তারা শামীমকে নিয়ে রীতিমতো পড়াশোনা (স্কাউটিং) করেছেন।

'শেষদিকে সে দারুণ একটি ইনিংস খেলেছে, যা ডেথ বোলার হিসেবে আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আমাদের নজর দিতে হবে এবং আগামীকাল আরও ভালো করতে হবে। হ্যাঁ, ওই শটটি সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। যেহেতু আমাদের অনেক ছেলেই তার বিপক্ষে খুব একটা খেলেনি, তাই আমরা এখন আমাদের স্কাউটিংয়ের কাজটা সেরেছি। আশা করছি, আগামীকাল আমরা একটি ভালো পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে পারব এবং ওই শটগুলো খেলা থেকে তাকে বিরত রাখতে পারব,' বলেন ফক্সক্রফট।  

মিরপুরে রাতের বৃষ্টির পর সকালেও বৃষ্টি হয়েছে, যদিও দুপুরের পর কিছুটা রোদের দেখা মিলেছে। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় শনিবারের তৃতীয় ম্যাচ নিয়েও আবহাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে ফক্সক্রফট জানিয়েছেন, তারা সিরিজ সমতায় ফেরাতে মরিয়া।