১৩ বলের ফিফটিতে উর্ভিলের রেকর্ড, উৎসর্গ করলেন বাবাকে
চেন্নাই সুপার কিংসের বিধ্বংসী ব্যাটার উর্ভিল প্যাটেল খেললেন বিস্ফোরক একটি ইনিংস। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে মাত্র ১৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন তিনি। এটি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে যৌথভাবে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।
রোববার চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে বাউন্ডারির পসরা সাজিয়ে আলোড়ন তৈরি করেন উর্ভিল। ২৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার লখনউয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে করেন ৬৫ রান। তিনে নেমে মাত্র ২৩ বল মোকাবিলায় তিনি দুটি চারের সঙ্গে হাঁকান আটটি ছক্কা। এর মধ্যে পাঁচটি ছক্কা আসে টানা পাঁচ বলে, তিনটি হজম করেন আবেশ খান ও দুটি দিগ্বেশ রাঠি।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে যশস্বী জয়সওয়ালের কীর্তিতে ভাগ বসালেন উর্ভিল। আইপিএলে তাদের চেয়ে কম বলে ফিফটি স্পর্শ করতে পারেননি আর কোনো ব্যাটার। জয়সওয়াল ২০২৩ সালে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ১৩ বলেই হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন।
রেকর্ড স্পর্শ করার পর পকেট থেকে হাতে লেখা একটি চিরকুট বের করেন উর্ভিল। সেখানে লেখা ছিল, ‘এটা তোমার জন্য, বাবা।’ আইপিএলের ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটি বাবাকে উৎসর্গ করার এই দৃশ্য দেখে গ্যালারির দর্শকদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
চতুর্থ ওভারে চেন্নাইয়ের ওপেনার সঞ্জু স্যামসন আউট হওয়ার পর উর্ভিল ব্যাটিংয়ে নামেন। ক্রিজে গিয়ে রান বাড়ানোর পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। লখনউয়ের কোনো বোলারকেই তিনি রেহাই দেননি। ৬২ রানে একবার জীবন পাওয়ার পর ৬৫ রানে থামে তার পথচলা। ক্যাচ তুলে শাহবাজ আহমেদের শিকার হন তিনি।
২০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শক্ত ভিত গড়ে দিয়ে দশম ওভারে বিদায় নেন উর্ভিল। তখন স্কোরবোর্ডে চেন্নাইয়ের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১২৬ রান। আউট হওয়ার আগে তিনি অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ঝড়ো জুটি গড়েন। তারা মাত্র ৩৪ বলে আনেন ৮১ রান।
উর্ভিলের রেকর্ডবইতে ঠাঁই নেওয়ার ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে চেন্নাই। লখনউয়ের ৮ উইকেটে ২০৩ রানের জবাবে ৪ বল বাকি থাকতে তারা লক্ষ্যে পৌঁছায়। ১১ ম্যাচে ষষ্ঠ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান এখন পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ব্যাটার হিসেবে দ্রুততম ও সব মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড রয়েছে উর্ভিলের নামের পাশে। ২০২৪ সালে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে মাত্র ২৮ বলে তিনি শতকটি হাঁকিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, আক্রমণাত্মক ঘরনাই তার ব্যাটিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্য।