‘বেঁচে থেকে যে কয়টা দিন মাঠে কাটাতে পারি এই ইচ্ছাটাই আছে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট

মেঘলা আবহাওয়া থাকায় সিলেটে নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুটা পরে অনুশীলনে এলো বাংলাদেশ দল। তবে মুশফিকুর রহিম সকাল ১০টারও আগে মাঠে এসে হাজির। এই রুটিন তার নতুন নয়। অনুশীলনে সবার আগে আসা, সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেওয়ার ধারা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই দশকের বেশি সময় ধরে। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে একশোর বেশি টেস্ট খেলা মুশফিক সবুজ ঘাসের বন্ধন খুব সহসাই ছাড়তে চান না।

সেই ২০০৫ সালে টেস্ট অভিষেক মুশফিকের, শুরুর দিকের কিছুটা সময় বাদ দিলে এরপর নিয়মিতই বাংলাদেশের টেস্ট আর মুশফিকের উপস্থিতি ছিল সমার্থক। ২১ বছরের পথচলায় দেশের হয়ে একশো টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। কদিন আগেই বয়স পেরিয়েছে ৩৯। দীর্ঘ এই পথচলাও এক সময় থামাতে হবে। সেটা খুব সহসা যে নয় সেই আভাস দিলেন মুশফিক। বাকি দুই সংস্করণ ছেড়ে দিলেও টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেননি তিনি, ‘না ভাই এরকম তো কোন লক্ষ্য নাই। কালকের ম্যাচও শেষ হয়ে যেতে পারে আবার বাকিটা উপরে আল্লাহ জানে। আমি চেষ্টা করি প্রতিটা ম্যাচ যেটা আমি বললাম যে ভাই মানে মৃত্যুর আগে কয়েকটা দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা। তো বেঁচে থেকে যে কয়টা দিন মাঠে কাটাতে পারি এই ইচ্ছাটাই আছে। এখন ছাড়বো বা কবে ছাড়বো এটা আসলে এখনো এরকম করে সিদ্ধান্ত নেইনি। কিন্তু ইনশাআল্লাহ খুব ভালো সময় থাকতে ছেড়ে দিব।’

২১ বছর ধরে অনুশীলনে সবার আগে আসা, সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেওয়ার পেছনে একটা দর্শন কাজ করে মুশফিকের, ‘প্রস্তুতি আসলে ব্যক্তিগত। এটি আমাকে আত্মবিশ্বাস দেয়। দল যখন ট্রেনিং করে তখন একসঙ্গে ১৫ জন প্লেয়ারকে একমোডেট করা কঠিন হয়, তাই আমি একটু আগে এসে নিজের কাজগুলো করি যেন আমার কারণে অন্য কারো নেটে দেরি না হয়।’

বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ টেস্ট ক্রিকেটার বর্তমান টেস্ট দলের আবহটা এত বেশি উপভোগ করছেন, তাতে আরও কিছুদূর এগুনোর প্রেরণা পাচ্ছেন তিনি, ‘ক্যারিয়ারের একদম শেষ প্রান্তে এসে প্রতিদিন মাঠের সময়টা এনজয় করা আমার জন্য একটা আশীর্বাদ। বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটকে এতদূর আনার পেছনে মমিনুল আর শান্তর অনেক অবদান আছে। গত ২-৩ বছর ওরা কোনো অভিযোগ ছাড়াই ডে-ইন ডে-আউট প্রসেস মেনটেইন করে কাজ করেছে। ওদের হাসি দেখলে আমারও ভালো লাগে। বর্তমানে দলে ধারাবাহিক পারফর্মারের সংখ্যা বেড়েছে। যখন দলে পারফর্মার বেশি থাকে, তখন যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হয়। গত ৬-৭ বছরে এটি একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন।’