উপেক্ষার হতাশা ছিল তীব্র, তবু ফেরার বিশ্বাস ধরে রেখেছিলেন মোসাদ্দেক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু একবার ভরা সংবাদ সম্মেলনে বলেই দিলেন, ‘মিরাজ থাকলে মোসাদ্দেকের সুযোগ নেই।’ দুজনেই যেহেতু অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার, আর মিরাজ যেহেতু দলে অপরিহার্য মোসাদ্দেক তখন পেয়েছিলেন না ফেরার বার্তা। এমন অবস্থায় একজন ক্রিকেটারের সামনে এগুনোর আলো দেখতে পাওয়ার কথা নয়, হারিয়ে ফেলার কথা উদ্দীপনা। তবে অবিস্মরণীয় ফেরায় অস্ট্রেলিয়া বধের নায়ক হয়ে মোসাদ্দেক বললেন, ফেরার বিশ্বাস একদমই হারাননি তিনি।

সাড়ে তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা দিয়েই শিরোনাম হয়েছিলেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ক্রমাগত এমন সব পারফরম্যান্স করছিলেন যে তাঁকে আর উপেক্ষা করা সম্ভব হচ্ছিল না। নতুন নির্বাচক প্যানেলের ডাকে ফিরলেন এবং ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে গড়লেন ইতিহাস।

১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে নড়ে ওঠা বাংলাদেশ দল যে তিনশর কাছে গেল, সেটা তাঁর কারণে। ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস খেলেছেন, পরে বল হাতেও নেন ২ উইকেট।

ম্যাচসেরা হয়ে আসা মোসাদ্দেক জানালেন কঠিন সময়টা কীভাবে সামাল দিয়েছেন তিনি, ‘হতাশা ছিল। খুব সহজ সময় ছিল না আমার জন্য। আমার লড়াইয়ের সময়টা হয়তো অনেকেই আপনারা দেখেছেন, হয়তো অনেকে দেখেননি। ওই জায়গা থেকে আমি সবসময় ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি এবং নিজের কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। এটা মাথার মধ্যে ছিল যে, একটা সুযোগ যখন আসবে, সেই সুযোগ যেন ভালোভাবে নিতে পারি।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে মোসাদ্দেক সব সময় বড় নাম। যদিও বিপিএলের গত দুই আসরে রহস্যজনক কারণে দল পাননি। প্রথম শ্রেণিতেও পারফরম্যান্স ছিল গড়পড়তা। তবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মোসাদ্দেক মানেই ভিন্ন কিছু। পরিসংখ্যানই পক্ষে কথা বলে তাঁর।

২০২২-২৩ মৌসুমে ৪৭ গড় ও ৯৬.৬২ স্ট্রাইক রেটে ৬৫৮ রান। ওভারপ্রতি ৪.৫৩ রান দিয়ে ১৬ উইকেট।

২০২৩-২৪ মৌসুমে ৭৯.২০ গড় ও ১২৩.৭৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৬ রান। ওভারপ্রতি ৩.৮৪ রান দিয়ে ২০ উইকেট।

২০২৪-২৫ মৌসুমে ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৪৮৭ রান। ওভারপ্রতি ৪.০৪ রান দিয়ে ৩০ উইকেট।

এমন পারফরম্যান্সের পর মনের গভীরে বিশ্বাস ছিল একদিন না একদিন জাতীয় দলে ফেরার ডাক আসবেই, ‘গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলছিলাম, এই বিশ্বাসটা ছিল যে এটা চালিয়ে যেতে পারলে একটা না একটা সময়ে আমার সুযোগ আসবে। যতটুকু না চেয়েছি, আল্লাহ তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছেন।’

‘আমি কৃতজ্ঞ টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি। উনারা যেভাবে আমার পাশে থেকেছেন, খেলার শুরুর আগে যেভাবে স্বাধীনতা আমাকে দিয়েছেন, আমাকে স্রেফ বলা হয়েছে আমার খেলাটাকে উপভোগ করতে। ওই জিনিসটা খেলার সময় মাথার মধ্যে ছিল না যে অনেকদিন পরে এসেছি বা কিছু। পরিস্থিতি যা দাবি করছিল, আমার কাছে মনে হয়েছে যে, ওভাবে করেই যাওয়া উচিত। আমি স্রেফ আমার কাজটা করার চেষ্টা করেছি।’