‘১৫ হোক বা ১৮, তাতে কী!’ সূর্যবংশীকে নিয়ে ব্রেট লি

স্পোর্টস ডেস্ক

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেটবিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে ভয়ডরহীন ব্যাটিং দিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দ্রুত জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের এই বাঁহাতি ব্যাটার। বয়স নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সূর্যবংশীর প্রতিভা নিয়ে কোনো সংশয় নেই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গতিতারকা ব্রেট লির। বরং তার বিশ্বাস, এই কিশোর ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু অর্জন করবে।

আইপিএল ২০২৬-এ বড় বড় নাম কিংবা বিশ্বমানের বোলারদের বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে ব্যাটিং করেছেন সূর্যবংশী। আক্রমণাত্মক মানসিকতা, দুর্দান্ত শটের বৈচিত্র্য এবং ব্যাটের অসাধারণ গতি তাকে পুরো আসরের অন্যতম আলোচিত তরুণ ক্রিকেটারে পরিণত করে। তার সেই পারফরম্যান্সই এনে দেয় ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে দ্রুত ডাক।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুটা অবশ্য প্রত্যাশামতো হয়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ধীরগতির শুরু করেছিলেন সূর্যবংশী। তবে জিম্বাবুয়ে সফরেই বদলে যায় চিত্র। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি।

এবার বৈভবের পাশে দাঁড়ালেন ব্রেট লি। কিশোর এই ব্যাটারের বয়স নিয়ে চলমান বিতর্ককে একেবারেই গুরুত্ব দিতে চান না সাবেক অস্ট্রেলীয় পেসার। তার কাছে বৈভবের বয়সের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাঠে তার অসাধারণ দক্ষতা।

বিয়ার বাইসেপসের ইউটিউব চ্যানেলে লি বলেন, ‘সে অবিশ্বাস্য। ভারতের বাইরে সবাই প্রশ্ন করে, সে সত্যিই ১৫ বছরের কি না। বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন তার বয়স নিয়ে। কিন্তু সে কত বছরের, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদি ১৫ হয়, দারুণ। আর যদি ১৭ বা ১৮ হয়, তাতেই বা কী? ছেলেটা ক্রিকেট খেলতে পারে। ভারতের জন্য সে দারুণ এক আবিষ্কার এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ও ভালো কিছু অর্জন করবে।’

আইপিএলে সূর্যবংশীর সাহসী ব্যাটিংও মুগ্ধ করেছে লিকে। বিশেষ করে গতিময় বোলারদের বিপক্ষে তার পুল ও হুক শট খেলার ক্ষমতা দেখে বিস্মিত সাবেক এই পেসার, ‘এত অল্প সময়ের মধ্যে সে আইপিএল মাতিয়ে দিয়েছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে তার ৯৭ রানের ইনিংসটির কথাই ধরুন। সেখানে অস্ট্রেলীয় বোলাররা প্রচণ্ড গতিতে বল করছিল, আর সে নাক বরাবর আসা বলও হুক করছিল। সে ক্রিকেটীয় শট খেলছে এবং কোথা থেকে যেন অসাধারণ শক্তি বের করে আনছে।’

তবে সূর্যবংশীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটিং নয়, বরং দ্রুত বেড়ে ওঠা খ্যাতি সামলানো, এমনটাই মনে করেন লি, ‘তার ফর্ম কিংবা ব্যাটিং নিয়ে আমি চিন্তিত নই। তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানসিক দিকটি। তাকে এখনো শিশু থাকতে হবে। তাকে শিশু হিসেবেই থাকতে দিন এবং তার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবেন না।’

সূর্যবংশীর বিপক্ষে নিজে বল করলে কী পরিকল্পনা করতেন, সেটিও জানিয়েছেন লি। তরুণ ব্যাটারের হুক ও পুল খেলার দক্ষতাকে বরং চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিতেন তিনি, ‘কেউ যদি ভালো হুক বা পুল খেলতে পারে, সেটা আমি পছন্দ করতাম। কারণ তখন বিষয়টি সত্যিকারের লড়াইয়ে পরিণত হয়। অবশ্যই আমি পরিকল্পনা করতে বসতাম, ভিডিও দেখতাম। এরপর তার ব্যাজ বরাবর একটি বল করতাম এবং দেখতাম সে কী করে। হয়তো সে আমাকে ছক্কাও মারত, কিন্তু তাতে তাকে আবার একই বল করতে আমি নিরুৎসাহিত হতাম না।’