ওপেনিংয়ে সূর্যবংশীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা নিয়ে মুখ খুললেন স্যামসন
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২২ বলে ৫৭ রানের ম্যাচজেতানো এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন সঞ্জু স্যামসন। প্রথম ম্যাচে ১০ রান করে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই সমালোচকদের যোগ্য জবাব দিয়ে দলকে ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। ম্যাচ শেষে ওপেনিং স্পটে বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং শ্রেয়াস আইয়ার ও গৌতম গম্ভীরের দল নির্বাচন নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করে 'প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ' হওয়ার পরও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একাদশে জায়গা হয়নি তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নামেন স্যামসন।
বাইরের দুনিয়া এটিকে তীব্র প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখলেও দলের ভেতরে ভাবনাটা আলাদা বলে জানান স্যামসন। তিনি বলেন, ‘বাইরের মানুষের কাছে আমরা প্রতিযোগী হতে পারি, কিন্তু দল হিসেবে আমরা সবাই দেশের হয়ে খেলি। এখানে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের জয়ই মূল কথা। “আমাকে না দিয়ে ওকে কেন সুযোগ দেওয়া হলো”—এমন নেতিবাচক চিন্তা করে মুখ ভার করে থাকার কোনো সুযোগ এখানে নেই।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সমালোচনা সামলানো নিয়ে খানিকটা রসিকতার সুরেই স্যামসন বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি ইন্টারনেটের দুনিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে। কিন্তু কখনো কখনো কানে এসেই যায়। ভারতে খেলে বাইরের এসব আলোচনা খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলাটা স্বাভাবিক। তবে আসল বিষয় হলো নিজের মানসিকতা পরিষ্কার রাখা।’
দলে সুযোগ পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে স্যামসনের বক্তব্য বেশ বাস্তবসম্মত। এর আগে নিজের টানা ব্যর্থতার সময়ে বৈভব ৩ ম্যাচে ১৫১ রান করে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি টেনে সঞ্জু বলেন, ‘ভারতের হয়ে রান করা সহজ নয়। ১৫ বছরের একটি ছেলে যখন প্রচুর রান করে ফর্মে থাকে, আর আমি ২-৩টি ম্যাচে ব্যর্থ হই, তখন ফর্মে থাকা খেলোয়াড়কেই তো তারা খেলাবে। অধিনায়ক ও কোচের জায়গা থেকে সিদ্ধান্তটা একদম সঠিক ছিল।’
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিপক্কতা এসেছে জানিয়ে স্যামসন যোগ করেন, ‘আমরা তো রোবট নই যে বাইরের কথায় কষ্ট পাব না। অবশ্যই খারাপ লাগে। তবে শট খেলার আগে যদি ভাবি, “আউট হলে তো আবার সমালোচনা হবে”, তাহলে এভাবে ব্যাট করাই সম্ভব হতো না। তাই এসব নিয়ে না ভেবে নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলি।’